Breaking News
Home / হজ্ব / মদীনা শরীফে মসজিদে নববী যিয়ারতের নিয়মাবলি

মদীনা শরীফে মসজিদে নববী যিয়ারতের নিয়মাবলি

মুসলিমবিডি২৪ ডটকম 

এ বিষয়ে সুন্নত তরীকগুলো নিম্নে বর্ণনা করা হল:

ের সাথে হজ্জ বা উমরাহ কোন সম্পর্ক নেই। এটি আলাদা ইবাদত। বছরের যেকোনো সময় এটি করা যায়।

এটি হজ্জের রুকন, ফরজ বা ওয়াজিব কিছুই নয়। এটি স্বতন্ত্র মুস্তাহাব ইবাদত। একটি কথা আমাদের মাঝে বহুল প্রচলিত আছে, সেটা হলো- যে

ব্যক্তি হজ্জ করল অথচ আমার যিয়ারতে এলো না সে আমার প্রতি জুলুম করল। এ বাক্যটি নবী (সা:)-এর কোন হাদীস নয়।

এটি মওদূ অর্থাৎ মানুষের তৈরি বানোয়াট কথা।

“আমার এ মসজিদে নববীতে সালাত আদায় অপরাপর মসজিদের এক হাজার সালাতের চেয়েও বেশী সওয়াব।”

(বুখারী:১১৯০, মুসলিম: ২৪,৭৩, ইবনে মাজাহ:১৩৯৪)

আর বাইতুল মুকাদ্দাসে এক নামাজ, পাচশ নামাজের সমান।

(মাজমাউয যাওয়াইদ: ৪/১১)

ডান পা আগে দিয়ে মসজিদে প্রবেশ: মুস্তাহাব হলো প্রথমে ডান পা আগে দিয়ে মসজিদে নববীতে প্রবেশ করবেন এবং পড়বেন: আল্লাহুম মাফতাহলী আবওয়াবা রাহমাতিক।

বসার আগে ২ রাকআত সালাত আদায়

মসজিদে প্রবেশের পর দুই রাকআত দুখুলুল মাসজিদ অথবা অন্য যেকোনো সালাত আপনি আদায় করবেন।

অত:পর আপনার ইচ্ছা মোতাবেক দোআ মুনাজাত করতে থাকবেন। এ দোআটি অন্যান্য যেকোনো মসজিদে ঢুকার সময়েরও দোআ।

সফরটি হবে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে:

পবিত্র মসজিদে নববী যিয়ারতের নিয়তে মদিনা মুনাওয়ারা রওনা দেবেন। সেখানে পৌছে সালাত আদায়ের পর আপনি নবীজির (সা:) এর কবর যিয়ারত করবেন।

কিন্তু আপনার সফরটি কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে হবে না। কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে লম্বা ও কষ্টসাধ্য সফর করা শরীয়তে জায়েজ নেই।

নবী (সা:) বলেছেন, “(ইবাদতের নিয়তে) মাসজিদে হারাম, মাসজিদে নববী ও মাসজিদুল আকসা ব্যতীত কঠিন ও কষ্টসাধ্য সফরে যেও না।

(বুখারী: ১১৮৯)

রওযায় সালাত আদায়

রওযা হলো রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর বসত ঘর (অর্থাৎ বর্তমান কবরস্থান)  থেকে তার (মসজিদের তৎকালীন)  মিম্বর পর্যন্ত মধ্যবর্তী জায়াগাটুকু যা জান্নাতের অংশবিশেষ।

(দেখুন বুখারী: ০০, মুসলিম:২৪৬৩)

এ স্থানটি সাদা কার্পেট বিছিয়ে নির্দিষ্ট করা আছে।

রাসূল (সা:)- এর কবর যিয়ারত:

আদব, বিনয়-নম্রতা ও নিচু স্বরে নবী (সা:)- এর কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে এভাবে তাকে সালাম দিন:

“যে কেউই আমাকে সালাম দেয় তখনই আল্লাহ তায়ালা আমার রূহকে ফেরত দেন, অত:পর আমি তার সালামের জবাব দেই।”

(আবু দাউদ: ২০৪১, মুসনাদে আহমাদ: ১০৪৩৪)

আবু বকর ও উমর (রা:) এর কবর যিয়ারত

এরপর একটু ডানে অগ্রসর হলেই আবূ বকর (রা:)- এর কবর। তাকে সালাম দিবেন এবং তার জন্য দোআ করবেন।

আর একটু ডান দিকে এগিয়ে গেলে দেখতে পাবেন উমর (রা:)- এর কবর। তাকেও সালাম দিবেন এবং তার জন্য দোআ করবেন।

রাসূলুল্লাহ (সা:) সহ উক্ত তিনজনকে আপনি এভাবেও সালাম দিতে পারেন।

কবর যিয়ারতের সুন্নত তরীকা:

কবর যিয়ারতের মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষা ও গ্রহণ এবং মৃত্যু ও আখিরাতের কথা স্মরণ করা। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন:

“তোমরা কবর যিয়ারত কর, কেননা এ যিয়ারত তোমাদেরকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়।”

(মুসলিম ৯৭৬)

বাকি কবরস্থান যিয়ারত

সম্মানিত হাজী ভাই ও বোন! যেহেতু আল্লাহ আপনাকে মুনাওয়ারায় পৌছার তাওফিক দিয়েছেন সেহেতু আমাদের পুরুষদের জন্য সুন্নত হলো,

‘বাকী’ নামক কবরস্থান যিয়ারত করা। এটি মদীনার কবরস্থান।  সেখানে শায়িত আছেন খাদিজা ও মায়মুনা (রা:) ছাড়া রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর সকল স্ত্রী,

কন্যা ফাতেমা, পুত্র ইবরাহিম, চাচা আব্বাস, ফুফু সুফিয়া, নাতী হাসান এবং জামাতা উসমান (রা:)- প্রায় দশ হাজার সাহাবী।

মহিলারা কি রাসূলের কবর যিয়ারত করবে?

না, মহিলারা কবর যিয়ারত করা জায়েজ নেই। রাসূলুল্লাহ (সা:) কবর যিয়ারতকারিণী নারীদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন।

তবে তারা রওযায় নামাজ পড়তে পারবে। এতে সওয়াব পাবে।

(তিরমিযী: ৩২০)

অনেকেই বলে নবীজীর রওযায় আমার সালাম পৌছাবেন,এরূপ সালাম পৌছানোর কোনো দলীল আছে কি?

না, তা নেই।দুরুদ ও সালাম পৌছানোর জন্য অগণিত ফেরেশতা রয়েছে। দুনিয়ার যেকোনো প্রান্ত থেকে মানুষের দুরূদ ও সালাম ফেরেশতারা,

রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর নিকট পৌছিয়ে থাকে।

“তোমরা কবরের উপর বসো না, আর কবরমুখী হয়ে সালাত আদায় করো না।”

(মুসলিম ৯৭২)

রাসূলুল্লাহ (সা:) মৃত ব্যক্তির নিকট কোনো কিছু চাইতে এবং বিপদমুক্তির জন্য সাহায্য চাইতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন:

“যদি কিছু চাও তো শুধু আল্লাহর কাছেই চাও, আর যখন বিপদ থেকে বাচতে চাও তখনও তা একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাও।”

(তিরমিযী ২৫১৬)

অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মনে রাখতে হবে যে, কোনো অবস্থাতেই মৃত ব্যক্তির কাছে কিছুই চাওয়া যাবে না। চাইলে শিরক হয়ে যাবে,

আর শিরক ঈমান থেকে বহিষ্কার করে দেয়। ফলে সে আর মুসলিম থাকে না। অতএব আপনি যাই চাইবেন তা শুধু আল্লাহর কাছেই চাইবেন।

“তোমাদের বাড়িগুলোকে কবর সদৃশ বানিও না এবং আমার কবরকে উৎসবের কেন্দ্রস্থল করো না। আমার প্রতি তোমরা দুরূদ ও সালাম পেশ কর।

কেননা (দুনিয়ার) যেখান থেকেই তোমরা দুরূদ পেশ কর, তা-ই আমার কাছে পৌছিয়ে দেয়া হয়।”

(আবু দাউদ: ২০৪২)

অন্য আরেক হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন:

“আল্লাহ তায়ালার একদল ফেরেশতা রয়েছে, যারা পৃথিবী জুড়ে বিচরণ করছে। যখনই আমার কোনো উম্মত আমার প্রতি সালাম জানায়,

ঐ  ফেরেশতারা তা আমার কাছে তখন পৌছিয়ে দেয়।”

(নাসায়ী: ১২৮২)

পরামর্শ:- মদীনায় হোটেলে প্রয়োজনমত বিশ্রাম নিন। বাদ বাকী সময় হাটে বাজারে না ঘুরে মসজিদে নববীতে বসে,

“দুরূদে ইব্রাহীম ” (যা আমরা নামাজে পড়ে থাকি) এবং ভাল অজিফা সাথে নিয়ে ের বিভিন্ন সূরা পড়ুন এবং অজিফায় থাকা বিভিন্ন ধরনের দুরূদ শরীফ বারবার পড়ুন।

প্রতিটি মুহুর্ত কাজে লাগান। জীবনে এ সুগোগ আর আসবে কি না একমাত্র আল্লহই জানেন।

About Admin

আমার নাম: এইচ.এম.জামাদিউল ইসলাম ঠিকানা: বালাগঞ্জ,সিলেট। আমি কওমি মাদ্রাসায় কোরাআনের খেদমত করতেছি, পাশাপাশি MuslimBD24.Com সাইটের প্রধান লেখক ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। অনলাইন সম্পর্কে মোটামুটি জ্ঞান থাকায়, তাই সময় পেলে দ্বীন ইসলাম প্রচারের সার্থে ইসলামিক কিছু পোস্ট লেখালেখি করি। যাতে করে অনলাইনেও ইসলামিক জ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞানহীন মানুষ, ইসলামিক জ্ঞান সহজে অর্জন করতে পারে। একজন মানুষ জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নিজের জীবনকে ইসলামের পথে চালাতে গেলে ইসলাম সম্পর্কে যে জ্ঞান অর্জন করার দরকার,ইনশা-আল্লাহ এই ওয়েব সাইটে মোটামুটি সেই জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। যদি সব সময় সাইটের সাথে থাকে। আর এই সাইটটি হল একটি ইসলামিক ওয়েব সাইট । এ সাইটে শুধু ইসলামিক পোস্ট লেখালেখি হবে। আল্লাহ তায়ালার কাছে এই কামনা করি যে, আমরা সবাইকে বেশী বেশী করে ইসলামিক জ্ঞান শিখার ও শিখানোর তাওফিক দান করুন, আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com