Breaking News
Home / তাবলীগ / তাবলীগ ও বিশ্ব ইজতেমা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

তাবলীগ ও বিশ্ব ইজতেমা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

(মুসলিমবিডি২৪ডটকম)

তাবলীগ ও বিশ্ব ইজতেমার গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

بسم الله الرحمن الرحيم

قال تعلي: كنتم خير امة اخرجت للناس تأمرهم بالمعروف و تنهون عن المنكر

অর্থঃ তোমাদেরকে উতম জাতি হিসাবে প্রেরণ করা হয়েছে যেন তোমরা মানুষদেরকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ কর।

وقال رسول الله صلي الله عليه وسلم :بلغو عني ولو اية  او كما قال عليه السلام

অর্থঃ আমার পক্ষ হতে একটি বাণী হলেও তোমরা তা পৌছিয়ে দাও।

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা

রাসুল সাঃ এর বাণী “আমার পক্ষ হতে একটি বাণী হলেও তা পৌছিয়ে দাও”  তাবলীগ জামাতে এর উপরই বিশেষ ভাবে আমল করা হয়।

তাই আসুন! তার সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই।

প্রশ্নোত্তরে বিশ্ব ইজতেমার তথ্যা বলি

১. পৃথিবীর কোন দেশে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়?

– বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়।

২. বিশ্ব ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য কি?

– বিশ্ব ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় কাজের জন্য মুসলমানদের একত্রিত করা,

প্রতিটি মুসলমান নারী-পুরুষের ঈমান, আমলের উন্নতি করা,

এবং সারা বিশ্বের সকল অমুসলিম ভাইদের কাছে ইসলামের তাওহীদি বাণী পোছিয়ে দেওয়া।

৩. ইজতেমা শব্দটি কোন ভাষার?

– ইজতেমা শব্দটি আরবি ভাষা।

 

৪. ইজতেমা বলতে কী বুঝায়?

– ইজতেমা বলতে ধর্মীয় কাজে একত্রিত বা সমবেত হওয়াকে বুঝায়।

 

৫. বিশ্ব ইজতেমার দায়িত্ব ও কর্তব্য কী?

– বিশ্বের আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে কুরআন-হাদিসের আলোকে বয়ান শুনা ,সেই অনুযায়ী আমল করা ও তা বিশ্বের দরবারে পৌঁছিয়ে দেওয়া।

 

৬. তাবলীগ শব্দের অর্থ কী?

– তাবলীগ শব্দের অর্থ হলো প্রচার বা প্রসার।

 

৭. তাবলীগ বলতে কী বুঝায়?

– তাবলীগ বলতে ইসলাম ধর্মের কর্মকাণ্ডের প্রচার ও প্রসারকেই বুঝায়।

 

৮. চিল্লা বলতে কি বুঝায়?

– চিল্লা বলতে ১৪/১৫ জন মুবাল্লিগ ঈমান ও আমলের কাজে ৪০ দিন বিভিন্ন মসজিদে নিজের আত্মশুদ্ধির জন্য ইবাদতে মগ্ন থাকা,

ইসলাম নিজে শেখা ও অন‍্যকে শেখানো,ইসলামের বাণী সবাইকে জানানো কে বুঝায়।

যেন পৃথিবীর সকল মানুষ এক আল্লাহর হুকুম ও রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সুন্নাত মত জীবন পরিচালনা করতে পারে সেই দাওয়াত দেওয়া হয়।

 

৯. একটি চিল্লায় কত জন মুবাল্লিগ অংশ নেয়?

– একটি চিল্লায় ১৪ থেকে ১৫ জন এর মত মুবাল্লিগ অংশ নেয়।

 

১০. এক চিল্লা কত দিনে হয় ?

– এক চিল্লা ৪০ দিনে হয়।

 

১১. চিল্লাদানকারীরা কী কাজে নিয়োজিত থাকেন ?

– চিল্লাদানকারীরা বিশ্বাবাসীর নিকট তাওহীদ, রিসালাত, আখেরাতসহ ইমান আমলের দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত থাকেন।

 

১২. আখেরী মোনাজাতের উদ্দেশ্য কি?

– আখেরী মুনাজাত এর উদ্দেশ্য হলো বিশেষ করে যারা ইজতেমা থেকে যারা চিল্লার জন্য বের হন অথবা পরবর্তীতে বের হবেন নিয়ত করেছেন,

তাদের নিরাপদ সফর ও সফলতা এবং সব মুসলমান‌রা নিজ, পরিবার, দেশ, জাতী ও বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষভাবে দো’আ করা।

 

১৩. তাবলীগ জামাতের ১ম উদ্যোক্তা মুরব্বী কে?

– তাবলীগ জামাতের প্রথম উদ্যোক্তা মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী রহ.।

 

১৪. মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবীর রহ.-এর জন্ম স্থান কোথায়?

– মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবীর রাহঃ এর জন্ম স্থান ভারতের দিল্লীতে।

 

১৫. তাবলীগ জামাতের ১ম সূচনা হয় কোন দেশে?

– তাবলীগ জামাতের ১ম সূচনা হয় ভারতের দিল্লীতে,১৯২৩-২৪ সালের দিকে হজ্জ থেকে ফিরে এসে মেহনত শুরু করেন নিজ এলাকায়।

ইলিয়াস( রহঃ)রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছ থেকে স্বপ্নের মধ্যে এই পদ্ধতিতে মেহনত করার জন্য নির্দেশ পেয়েছিলেন।

 

১৬. মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী রহ. কত সাল হতে এই মহতি কাজের দাওয়াত শুরু করেন?

– মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী রহ. হিজরী ১৩৪৫ সন হতে এই মহতি কাজের দাওয়াত শুরু করেন।

১৭. মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী রহ. কত সালে ইন্তেকাল করেন?

– মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী রহ. ১৯৪৪ ইংরেজী সনে ইন্তেকাল করেন।

১৮. বাংলাদেশে কত সাল হতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ?

– বাংলাদেশে ১৯৪৬ইং সন হতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।

১৯. সর্ব প্রথম বাংলাদেশের কোথায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়?

– সর্ব প্রথম ঢাকার কাকরাইলস্থ প্রাচীন তাবলীগ মসজিদে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালে।

২০. বাংলাদেশ ২য় বিশ্ব ইজতেমা কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

– বাংলাদেশ ২য় বিশ্ব ইজতেমা চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালে।

২১. বাংলাদেশে ৩য় বিশ্ব ইজতেমা কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

– বাংলাদেশে ৩য় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জে ১৯৫৮ সালে।

২২. বাংলাদেশে ৪র্থ ইজতেমা কোথায় অনুষ্ঠিত হয় এবং কত সালে?

– বাংলাদেশে ৪র্থ ইজতেমা গাজীপুর জেলার টঙ্গীস্থ পাগারে ১৯৬৬ইং সনে।

২৩. বর্তমানে বাংলাদেশে নিয়মিত বিশ্ব ইজতেমা কোথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে?

– বর্তমানে বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে গাজীপুর জেলার টঙ্গীস্থ তুরাগনদী তীরে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৯৬৭ইং সন হতে।

২৪. ১৯৬৬ সনে বিশ্ব ইজতেমায় কতজন মুসল্লী অংশগ্রহণ করেছিল?

– ১৯৬৬ সনে বিশ্ব ইজতেমায় মাত্র ৪৫০০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করেছিল।

২৫. ১৯৬৬ সালে মুসল্লীদের পানির জন্য কতটি হস্ত চালিত নলকূপ বসানো হয়েছিল?

– ১৯৬৬ সালে মুসল্লীদের পানির জন্য মাত্র ১০টি হস্ত চালিত নলকূপ বসানো হয়েছিল।

২৬. বর্তমানে ইজতেমা ময়দানে অঢেল পানি সরবরাহের উৎস কি?

– ৪টির অধিক বিদ্যুৎ চালিত গভীর প্রডাকশন নলকূপ।

২৭. বর্তমানে বিশ্বে কতটি জামাত তাবলীগ জামাতে মেহেনত করে যাচ্ছে?

– প্রায় ২০০ শতের অধিক জামাত।

২৮. বর্হিঃবিশ্বে কতটি দেশ তাবলীগ জামাতে মেহেনত করে যাচ্ছে?

– পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই।

 

২৯. বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের সদর দপ্তর কোথায়?

– বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের সদর দপ্তর ঢাকা শহরের কাকরাইলস্থ তাবলীগ মসজিদে।

৩০. বিশ্ব ইজতেমায় মুসলীম মুসল্লী ছাড়া অন্য কোন ধমর্মের লোকেরা অংশগ্রহণ করে?

– হ্যাঁ, প্রায় ২০০ শত সনাতন ধর্মের লোকেরা অংশ গ্রহণ করে থাকে।যারা ন‌ওমুসলিম হতে আগ্রহী (জরিপ অনুযায়ী)।

 

৩১. তাবলীগ জামাতে কি কি পরিভাষা ব্যবহার করা হয়?

– তাসকিল, জুড়নেওয়ালে জামাত, গাশ্ত, চিল্লা, সাল, তালিম, বয়ান, এলান, আমির, মেহনত, জিম্মাদার, জামাত, সাথী, মামুর, মোতাকাল্লেম, উসুল ইত্যাদি।

৩২. ঢাকা শহরে কাকরাইলস্থ তাবলীগ মসজিদের অপর নাম কি?

– জিন্দা মসজিদ।

৩৩. কাকরাইল মসজিদকে জিন্দা মসজিদ বলা হয় কেন?

– প্রায় ৪০ বছর যাবৎ এই মসজিদের কোন তালা-চাবি নেই, সর্বক্ষণিক মুসল্লীরা আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকে। যার ফলে দরজা বন্ধের প্রয়োজন হয় না বলেই সর্বদা জিন্দা।

৩৪. বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লী কারা?

– বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লী সমগ্র বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা।

৩৫. বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লীদের পার্থক্য কিরূপ?

– কোন পার্থক্য বা ভেদাভেদ নেই, আমির ফকির সকলেই এখানে সমান সমান।

৩৬. বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের সহজ-সরল খাবার কি?

– সাধারণত ডাল খিচুরি।

৩৭. বিশ্ব ইজতেমায় পত্রে কাওকে দাওয়াত দেয়া হয় কি?

– মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় সরকার প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান, কাওকেই দাওয়াত দিতে হয় না,

ধর্মপ্রাণ মুসলমারা আল্লাহর দাওয়াতে সকলে নিজ নিজ দায়িত্বে অংশগ্রহণ করে থাকেন।

৩৮. বিশ্ব ইজতেমায় মুনাজাতের নির্দিষ্ট সময় কখন?

– সকাল ১০টা হতে জোহরের আগ পর্যন্ত।

৩৯. বিশ্ব ইজতেমায় আগত অধিক সংখ্যক বিদেশী মেহমান কোন্ দেশের?

– ইন্দোনেশিয়া,ভারত, মালোশিয়া,পাকিস্তান, মধ‍্যপ্রাচ‍্যের বিভিন্ন আরব দেশগুলো।

এছাড়া এশিয়ার ইউরোপ,আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ,আমেরিকা‌ মহাদেশের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিম‌রা এসে থাকেন।

 

৪০. বিশ্ব ইজতেমায় প্যান্ডেল নির্মাণের শ্রমিক কারা এবং কত দিন পর্যন্ত সময় লাগে?

– ধর্মপ্রাণ সকল শ্রেণীর স্বেচ্ছা শ্রমিক প্রায় ৩ মাসের অধিক সময় লাগে।

৪১. বিশ্ব ইজতেমায় অর্থ যোগানদারী কারা?

– নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশী-বিদেশী ধর্মপ্রাণ বিত্তশালীরা।

৪২. বিশ্ব ইজতেমার সময়কাল কত?

– মাত্র ৩ দিন।

৪৩. বিশ্ব ইজতেমা আমাদেরকে কি শিক্ষা দেয়?

– বাদশা, আমির, ফকির সকলেই সমান, সকলেই আল্লাহর বান্দা।

নিজে ইসলামী শরীয়ত ১০০% মানার পাশাপাশি,ইসলামের বাণী পৃথিবীর সকল মানুষের কাছে পোঁছিয়ে দিতে হবে।

কেননা এটা প্রত‍্যেক মুসলমান এর উপর রাসূলুল্লাহ সাঃ এর জিম্মাদারী।

 

৪৪. বিশ্ব ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লীগণের বয়সের তারতম্য কিরূপ?

– পূর্ণবয়স্ক প্রায় ৩৫% মধ্যম বয়স্ক ৩৮% কিশোর-যুব প্রায় ২২% পর্দানশীল নারী প্রায় ৫%।

(নারীরা ময়দানে‌র আশেপাশে বাসাবাড়িতে অংশগ্রহণ করেন।)

 

৪৫. বিশ্ব ইজতেমা স্থল ছাড়া আগত মুসল্লিরা আর কোথায় মুনাজাতে অংশ গ্রহণকরে ?

– বিশ্ব ইজতেমা স্থল হতে ঢাকামুখী বিমানবন্দর ও খিলক্ষেত পর্যন্ত রাস্তা, ঘরের ছাদ, বারান্দা,

রেলাইনের উপর পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষের অধিক মুসল্লী মুনাজাতে অংশগ্রহণ করে।

 

হে আল্লাহ এই বছর বিশ্ব ইজতেমা‌কে ভরপুর কবুল করুন।আমলী ইজতেমা হিসেবে কবুল করুন।

সমস্ত বালা-মূছীবত থেকে হেফাজত করুন।আমিন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

ইনশাআল্লাহ এই বছর বিশ্ব ইজতেমা শুরু হচ্ছে ১০,১১,১২ জানুয়ারি ,২০২০।

About নঙ্গে আসলাফ আফজাল

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী।উলামায়ে দেওবন্দের সমর্থক। হক্কানী আলেম-উলামার পক্ষে দেশী বা বিদেশী বিদআতি ও বাতিল ফেরকার বিপক্ষে।নঙ্গে আসলাফ হাফিজ.মাওলানা .আফজালুর রহমান। ঠিকানা: বালাগঞ্জ, সিলেট। মোবাইল নাম্বার:০১৭১৪৪৭৫৭৪৫ ইমেইল: hafijafjal601@gmail.com ইউটিউব চ্যানেলঃ https://www.youtube.com/channel/UCocSpOf_nj57ERq1QorZA6A

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com