Breaking News
Home / মাদক ও তামাক / ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মাদক ও তামাক

ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মাদক ও তামাক

(মুসলিমবিডি২৪ডটকম) 

ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মাদক ও তামাক

কুরআন হাদিসে মদ বা মাদক ইত্যাদি বুঝাবার জন্যে خَمْر শব্দ এসেছে।

خَمْر (খমর) এর আভিধানিক অর্থঃ ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় “খমর” বলে مَا خَمَرَالعَقلَ “যে বস্তু মানুষের জ্ঞান-বুদ্বি লোপ করে”।

  • রাসুল সাঃ খমর এর সংজ্ঞায় বলেনঃ والخمر ما خمر العقل তিনি আরো এক হাদিসে বলেনঃ كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ

অর্থঃ ” প্রত্যেক নেশাকর বস্তুই খমর, আর প্রত্যেক নেশাকর বস্তুই হারাম “।

অতএব বর্তমানে প্রচলিত হেরোইন, কোকেন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, প্যাথিডিন, মরফিন, মেথাডন, আফিম, গাঁজা, চরস, ভাঙ্গ,

কুইলিন, ভদকা, কাকটেল, ক্যানাবিস, রেসিন, বারবিচুরেটস, ফেনসাইক্লিডাইন, টেট্রাহাইড্রো, ম্যাথা কোয়ালন,

এল. এস. ডি ইত্যাদি নেশাকর যে কোন মাদকই কুরআনে কারীমে নিষিদ্ধ ” খমর”এর অন্তর্ভুক্ত।

তাই তা সেবন করা বা পুশ করা তথা যে কোন ভাবে ব্যবহার করা নিষেধ।

মদ হারাম হওয়া সংক্রান্ত বিধি বিধান

আল্লাহর নির্দেশাবলীর তাৎপর্য তিনিই ভাল জানেন। তবে শরীয়তের নির্দেশসমুহের প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে,

ইসলামী শরীয়ত কোন বিষয়ে কোন বিধান প্রদান করতে গিয়ে মানবীয় আবেগ অনুভূতিসমুহের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রেখেছে।

যাতে মানুষ সেগুলো অনুসরণ করতে গিয়ে বিশেষ কষ্টের সম্মুখীন না হয়। যেমন কুরআনে ঘোষিত হয়েছে- “لا يكلف الله نفسا الا وسعها”

অর্থঃ”আল্লাহ কোন মানুষকেই এমন কোন আদেশ দেন না, যা তার শক্তি ও ক্ষমতার ঊর্ধ্বে।

এই দয়া ও রহস্যের চাহিদা ছিল ইসলামী শরীয়তে মদপানকে হারাম করার ব্যাপারে পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

আল্লাহ তায়ালা মদপানকে একবারেই হারাম ঘোষণা করেননি। বরং কুরআনে কারীমে পর্যায়ক্রমে চারবারে চারখানা আয়াত নাযিল করে হারাম ঘোষণা করেছেন।

প্রথমত নাযিলকৃত আয়াত হল, ويسءلونك عن الخمر والميسر قل فيهما اثم كبير ومنافع للناس واثمهما اكبر من نفعهما.

এই আয়াতটি সর্বপ্রথম নির্দেশ। এতে মদপানের দরুন যে পাপ ও ফাসাদ সৃষ্টি হয়, তার বর্ণনা দিয়েই ক্ষান্ত করা হয়েছে, মদপান হারাম করা হয়নি।

মদপান সম্পর্কে নাযিলকৃত দ্বিতীয় আয়াত হল, “لا تقربوا الصلوة وانتم سكرى” এতে বিশেষভাবে নামাজের সময় মদপানকে নিষেধ করা হয়েছে।

তবে অন্যান্য সময়ের জন্য অনুমতি রয়ে গেছে। অতঃপর সুরা মায়েদায় তৃতীয় ও চতুর্থ আয়াত নাযিল করা হয়েছে।

যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ”يا ايها الذين امنوا انما الخمر والميسر والانصاب والازلام رجس من عمل الشيطان، الاية”انما يريد الشيطان ان يوقع، الاية”

এই দুই আয়াতে পরিস্কার ও কঠোরভাবে মদপান নিষিদ্ধ ও হারাম করা হয়েছে। এ বিষয়ে শরীয়তের এমন পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা গ্রহনের কারণ ছিল এই যে,

আজীবনের অভ্যাস ত্যাগ করা বিশেষতঃ নেশাজনিত অভ্যাস হঠাৎ করে ত্যাগ করা মানুষের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর।

উলামাগণ বলেন-যেভাবে শিশুদেরকে বুকের দুধ ছাড়ানো কঠিন ও কষ্টকর;তেমনি মানুষের কোন অভ্যাসগত কাজ ছাড়ানো এর চাইতেও কষ্টকর।

এজন্য ইসলাম এক্ষেত্রে প্রথমে মদের মন্দ দিকগুলো মানব মনে বদ্ধমূল করেছে। অতঃপর নামাজের সময়ে একে নিষিদ্ধ করেছে,

এবং বিশেষ সময়ের পরিবর্তে কঠোরভাবে সর্বকালের জন্যই নিষিদ্ধ ও হারাম করে দেওয়া হয়েছে।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মদপান

মদের মধ্যে সাময়িক কিছু উপকারিতা রয়েছে, যেমন মদের মাধ্যমে আনন্দ লাভ হয়, সাময়িক ভাবে শক্তিও সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে কিছুটা লাবণ্যও সৃষ্টি হয়।

কিন্তু এ নগণ্য উপকারিতার তুলনায় এর ক্ষতির দিকটা এত বিস্তৃত ও গভীর যে, অন্য কোন বস্তুতেই সচরাচর ক্ষতির দিকটা এত প্রকট হয়ে ধরা দেয় না।

শরাবের প্রতিক্রিয়ায় ধীরে ধীরে মানুষের হজম শক্তি বিনষ্ট হয়ে যায়, রুচি কমে যায়, চেহারা বিকৃত হয়ে পড়ে; স্নায়ু দুর্বল হয়ে আসে।

সামগ্রিকভাবে কার্যক্ষমতার উপর মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। একজন জার্মান ডাক্তার বলেছেন,

যারা মদপানে অভ্যস্ত তারা চল্লিশ বছর বয়সে ষাট বছরের বৃদ্ধের মত অকর্মণ্য হয়ে পড়ে।

তাদের শরীরের গঠন এত হাল্কা হয়ে যায় যে, ষাট বছরের বৃদ্ধেরও তেমনটি হয় না। তাছাড়া মদ লিভার ও কিডনীকে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করে ফেলে।

যক্ষ্মারোগ মদপানেরই একটি বিশেষ পরিণতি। ইউরোপের শহরাঞ্চলে যক্ষ্মার আধিক্যের কারণ হলো অতিমাত্রায় মদপান।

বস্তুতঃ মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধির উপর এর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সকলেই অবগত। সকলেই জানেন যে, মানুষ যতক্ষণ নেশাগ্রস্ত থাকে,

ততক্ষণ তার জ্ঞান-বুদ্ধি কোন কাজই করতে পারে না। অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের অভিমত হচ্ছে যে,

নেশার অভ্যাস মানুষের বোধশক্তিকেও দুর্বল করে দেয়। অনেক সময় এতে মানুষ পাগলওপাগলও হয়ে যায়।

চিকিৎসাবিদগণ এ ব্যাপারে সকলেই একমত যে, মদ কখনও শরীরের অংশে পরিণত হয় না। এতে শরীরে রক্ত সৃষ্টি হয় না;

বরং রক্তের মধ্যে সাময়িক চাপ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয় মাত্র। ফলে সাময়িকভাবে শক্তির সামান্য আধিক্য অনুভূত হয় মাত্র।

কিন্তু হঠাৎ রক্তের এ উত্তেজনা ও চাপ অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

About Hafij Khijir

আমার নাম হাফিজ খিজির আহমদ। ঠিকানা. সিলেট, বাংলাদেশ। আমি কওমি মাদ্রাসার অধ্যায়নরত একজন ছাত্র। আমার ধর্ম ইসলাম । আর আমি এই ইসলাম সম্পর্কে জানতে শিখতে ও শিখাতে ভালোবাসি। আমি যা জানি তা জানাই, এবং যা জানিনা তা জানার চেষ্টা করি ও করতেছি।উদ্দেশ্য একটাই আল্লাহ এবং আল্লাহ তাআলার রাসুলের সন্তুষ্টি অর্জন ।

2 comments

  1. ধন্যবাদ আপনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট

  2. খিজির আহমদ

    খুব সুন্দর হয়েছে, মাশা আল্লাহ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »

Powered by themekiller.com