Breaking News
Home / আল্লাহর ওলীগণ / আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী ( রহ.)-এর কয়েকটি বিস্ময়কর ঘটনা

আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী ( রহ.)-এর কয়েকটি বিস্ময়কর ঘটনা

(মুসলিম বিডি২৪.কম)

আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.)-এর কয়েকটি বিস্ময়কর ঘটনা

بسم الله الرحمن الرحيم

বিস্ময়কর ঘটনা

হযরত মাওলানা আনোয়ারী সাহেব লায়েলপুরী আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী ( রহ.)-এর বিশিষ্ট ছাত্র ছিলেন।

তিনি বলেন – ভাওয়ালপুরের আদালতে আল্লামা কাশ্মীরী ( রহ.)  ও কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সঙ্গে যে ঐতিহাসিক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সেখানে কাদিয়ানী পক্ষের সাক্ষী শাহ সাহেব ( রহ.) কে প্রশ্ন করল– আপনি বলেছেন যে, আমাদের ধর্ম মুতাওয়াতির বা ক্রমাগত ।

আর তাওয়াতুরের ( ক্রমাগমনের) কোন এক প্রকারেকে অস্বীকার করলে সে কাফির।

অতএব আপনার দাবী দৃষ্টে বিচার করলে কিংবদন্তি ইমাম রাযী ( রহ.)  কে কাফির বলতে হয়। কেননা “আর রাহামূত শরহে মুসাল্লামুস-সুবূতে ”

আল্লামা বাহরুল উলূম ( রহ.)  লিখেছেন ইমাম রাযী  ( রহ.)  তাওয়াতুরে মা’নুবী বা অর্থগত ক্রমাগমনকে অস্বীকার করেছেন।

মাওলানা আনোয়ারী ( রহ.)  সাহেব বলেন- এ চ্যালেঞ্জের জবাবে শাহ সাহেব ( রহ .) উক্ত কিতাবটি ( পাওয়াতেহুর রাহামূত) তলব করলেন।

ঘটনাক্রমে কিতাবটি আমাদের নিকট ছিল না কিন্তু শাহ সাহেব (রহ.) তৎখনাৎ কোন চিন্ত–ফিকির ছাড়াই বললেন-মাননীয় আদালত!

যে কিতাবটির উদ্বৃতি আমার প্রতিপক্ষ উল্লেখ করেছেন সেটি এ মুহূর্তে আমার হাতে নেই। তবে আমি বত্রিশ বছর পূর্বে কিতাবটি দেখেছি।

তাতে ইমাম রাযী (রহ.) বলেনلَاتَجْتَمِعُ اُمَّتِیْ عَلَی الَضَّلَا لَةِ

এ হাদীসটি তাওয়াতুরে মা‘নুবীর পর্যায় ভুক্ত হবে না  তিনি এ হাদীসটি মুতাওয়াতির হওয়াকে অস্বীকার করেছেন।

মুতাওয়াতিরে মা‘নুবীর -এর প্রমাণ্য হওয়াকে অস্বীকার করেননি সে প্রহসন ও প্রতারণা মুলক উদ্ধৃতি দিয়েছ।

আপনি তাকে বলুন হয়ত সে মূল ইবারত পড়ুক নতুবা আমি তার সামন থেকে কিতাব নিয়ে কিতাবের মূল পাঠ আপনাকে পড়ে শোনাব।

কাদীয়ানী মুখপাত্র মূলপাঠ পড়ার পর তা-ই পাওয়া গেল যা শাহ সাহেব (রহ.) মুখস্থ   শুনিয়েছিলেন জজ সাহেব এতে অত্যান্ত আনন্দিত ও বিস্মিত হল।

হযরত শাহ সাহেব (রহ.) বলেন-মাননীয়  জজ সাহেব! প্রতিপক্ষ লোকটি আমাকে নিরোত্তর করতে চেয়েছিল কিন্তু আমি যেহেতু একজন  জ্ঞান পিপাসু।

তালিবে ইলম (ছত্র) দু’চারটি কিতাব দেখেছি সেহেতু আমি লাজওয়াব বা নিরোত্তর হওয়ার    পাত্র নই ইনশাআল্লাহ ।

আনওয়ারে আনওয়ারী-৩১-৩২)

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) বলেন–ছোট বেলায় আমি আমার বাবার সঙ্গে মসজিদে  যাওয়া-আসা করতাম।

একদিন দেখতে পেলাম দুইজন নিরক্ষর লোক মসজিদে বিতর্কে লিপ্ত তাদের একজনের ভাষ্য আখিরাতে দেহ এবং আত্মাকেই কেবল শাস্তি ভোগ করতে হবে।

প্রথম জন অর্থাৎ উভয়টির শাস্তির দাবীদার লোকটি তার কথার সমর্থনে  উপমা পেশ করল – একজন অন্ধ ও একজন লেংড়া লোক একটি বাগানে।

চুরি করার জন্য প্রবেশ করল লেংড়া বলল- আমি পাঁয়ে হাটতে পারি না  অন্ধ লোকটি বলল-আমি দেখতে পাই না।

পরিশেষে  সমঝোতা হল- লেংড়া লোকটি অন্ধ লোকটির কাঁধে চড়ে ফল ছিড়বে যথারীতি তাই করা হল।

ইতিমধ্যে বাগানের মালিক এসে হাযির হলে যেমন উভয়কে গ্রেপ্তার করবে তেমনিভাবে আখিরাতেও দেহ -আত্মা উভয়টিকে শাস্তি দেয়া হবে।

শাহ সাহেব (রহ.)  বলেন- আমি দীর্ঘদিন পর “তাযকিরাতুল কুরতুবী” অধ্যায়ন করেছিলাম  হাঠাৎ তাতে উল্লেখিত উপমাটি হুবহু ।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত হাদীসে দেখে নিরক্ষর লোকটির বিচক্ষণতা।

ও প্রাকৃতিক অন্তদৃষ্টিতে বিস্মিত ও হতভম্ব হয়ে রইলাম  যে, লোকটি কি করে জবাব দিল!

আনওয়ারে বারী-৩৮

শাহ সাহেব (রহ.) একদা কাশ্মীর যাচ্ছিলেন পথে শিয়ালকোর্ট টার্মিনালে গাড়ির অপেক্ষায় বসেছিলেন।

হঠাৎ জনৈক পাদ্রী বলল তোমাকে মুসলমানদের পন্ডিত ব্যক্তি বলে মনে হচ্ছে? শাহ সাহেব (রহ.) বললেন- না আমি একজন তালিবে ইলম।

পাদ্রী জিজ্ঞেস করল – ইসলাম সম্পর্কে কিছু জান? শাহ সাহেব (রহ.) বললেন- যৎসামান্য।

তবে ক্রস সম্পর্কে তোমার ধারণা সঠিক নয় অতঃপর তিনি রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নুবওয়াতের সত্যতা প্রমাণে।

চল্লিশ দলীল পেশ করলেন দশটি কুরআন থেকে দশটি তাওরাত থেকে দশটি ইঞ্জিল থেকে এবং  দশটি যুক্তির আলোকে।

হযরত   আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) একবার আল্লামা ইবনে জারারী তাবারী  (রহ.)-এর ঘটনা শুনাচ্ছিলেন।

আল্লামা ইবনে জারারী তাবারী (রহ.) একবার হাদীসের দরস দান করছিলেন পথিমধ্যে জনৈক ধনী লোক এসে।

তাঁর খিদমতে কিছু আশরাফী (স্বর্ণমুদ্রা) ভর্তি একটি থলে পেশ করল এতে হযরতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না পেরে অবশেষে লোকটি থলেটি রেখে চলে গেল।

ইবনে জারারী (রহ.) থলেটি বাইরে ছুড়ে মারলেন ফলে থলে ছিড়ে স্বর্ণমুদ্রা গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকল।

লোকটি পিছনে ফিরে দেখে দৌড়ে এসে সেগুলো কুড়াতে লাগল ইবনে জারারী (রহ.) বললেন- এ মুদ্রা গুলো যখন তুমি আমাকে দিয়েই দিয়েছ।

তবে আবার কেন সেগুলো কুড়াচ্ছ? এখন তো এগুলো আমার মালিকানাধী। প্রগুক্ত -৬১

               সুত্র-নির্বাচিত গল্প সংকলন

About saifur rahman

আমি হাফিজ মোঃ সাইফুর রহমান হিফয সম্পন্ন করেছি উমুরপুর বাজার টাইটেল মাদ্রাসা থেকে। বর্তমানে জামেয়া গহরপুরে অধ্যায়নরত আছি। আমার থানা বালাগঞ্জ জেলা সিলেট।

Check Also

ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করা বোকামি

ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করে বর্তমান নষ্ট করা বোকামি

(মুসলিমবিডি২৪ডটকম) আগামীকাল কি হবে তা নিয়ে চিন্তা করে নিজের বোঝা বাড়ানো নিতান্তই একটি বোকামী। কারণ, …

Leave a Reply

Powered by

Hosted By ShareWebHost