Breaking News
Home / ইসলাম ধর্ম / কোরআনের আলোকে দাম্পত্য সম্পর্কের তিন স্তর: যাওজাহ, ইমরাআহ ও সাহিবাহ

কোরআনের আলোকে দাম্পত্য সম্পর্কের তিন স্তর: যাওজাহ, ইমরাআহ ও সাহিবাহ

কোরআনের আলোকে দাম্পত্য সম্পর্কের তিন স্তর: যাওজাহ, ইমরাআহ ও সাহিবাহ

সব স্ত্রী “যাওজাহ” হয় না

 

কুরআনুল কারীমে স্ত্রী অর্থে তিনটি আলাদা শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে — ইমরাআহ, যাওজাহ এবং সাহিবাহ। এই শব্দগুলো দেখতে সমার্থক মনে হলেও তাৎপর্যের দিক থেকে এদের মধ্যে গভীর পার্থক্য রয়েছে।

 

তিনটি শব্দের পার্থক্য

 

ইমরাআহ— যে স্ত্রীর সাথে স্বামীর শারীরিক সম্পর্ক আছে, কিন্তু ভালোবাসা, সামঞ্জস্য ও দ্বীনী ঐকমত্য নেই।

 

যাওজাহ — যে স্ত্রীর সাথে স্বামীর শারীরিক সম্পর্কের পাশাপাশি ভালোবাসা, সম্প্রীতি এবং দ্বীন ও চিন্তাধারায় পূর্ণ সামঞ্জস্য রয়েছে।

 

সাহিবাহ— যে স্ত্রীর সাথে স্বামীর শারীরিক ও চিন্তাধারার সম্পর্ক উভয়ই বিচ্ছিন্ন।

 

 কুরআনের প্রয়োগ থেকে শিক্ষা

 

আল্লাহ তা’আলা হযরত নূহ ও লূত আ.-এর স্ত্রীদের ইমরাআহ বলেছেন, কারণ তারা নবীদের সাথে ঈমানদার অবস্থায় ছিলেন না।

একইভাবে ফেরআউনের স্ত্রী মুমিনা হলেও ফেরআউন কাফের — তাই তাকেও ইমরাআহ বলা হয়েছে।

 

অপরদিকে হযরত আদম আ.-এর স্ত্রী এবং নবী কারীম ﷺ-এর সহধর্মিণীদের যাওজাহ বলা হয়েছে — কারণ তাঁদের মধ্যে দ্বীনী সামঞ্জস্য ও ভালোবাসা পরিপূর্ণ ছিল।

 

হযরত যাকারিয়া আ.-এর স্ত্রীকে প্রথমে ইমরাআহ বলা হয়েছিল — সন্তান ধারণে অক্ষমতার কারণে অমিল থাকায়।

কিন্তু ইয়াহিয়া আ.-এর জন্মের পর সেই অমিল দূর হলে আল্লাহ তাঁকে যাওজাহ বলেছেন।

 

কিয়ামতের দৃশ্যে স্ত্রীর জন্য সাহিবাহ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে — কারণ সেদিনের ভয়াবহতায় সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।

 উপসংলাপ

যাওজাহ হলো দাম্পত্য সম্পর্কের সর্বোচ্চ মর্যাদা — যেখানে শারীরিক সম্পর্কের পাশাপাশি ঈমান, ভালোবাসা ও চিন্তাধারায় পূর্ণ মিল বিদ্যমান।

ইমরাআহ হলো অসম্পূর্ণ দাম্পত্য — যেখানে শারীরিক সম্পর্ক থাকলেও দ্বীন, ভালোবাসা ও চিন্তাধারায় মিল নেই।

সাহিবাহ হলো সম্পর্কের ক্ষয়িষ্ণু রূপ — যেখানে শারীরিক ও মানসিক উভয় বন্ধনই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আমরা যারা বিবাহিত, আমাদের সম্পর্ক কোন স্তরে — সেটি একবার ভেবে দেখা উচিত। এবং যাওজাহ-এর মর্যাদায় পৌঁছানোই হোক আমাদের লক্ষ্য।

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

“হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা বানাও এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানাও।”

— (সূরা আল-ফুরকান: ৭৪)

 

About MD ABDULLAH AFJAL

আমি হাফিজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আফজাল। আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামী শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দ্বীনি ইলম অর্জন করে আসছি। হাদিস শাস্ত্রে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি, যেখানে রাসূল ﷺ এর বাণী, জীবনাদর্শ ও তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের উপর বিশেষভাবে অধ্যয়ন করেছি। আমার লক্ষ্য হলো কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া, সহজ ভাষায় দ্বীনের কথা পৌঁছে দেওয়া এবং সমাজে নৈতিকতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বর্তমানে আমি শিক্ষা, দাওয়াহ ও ইসলামী জ্ঞান প্রচারের সাথে সম্পৃক্ত আছি।

Check Also

দৈনিক আমলে আখিরাতের পাথেয়

এই তিনটি ছোট ছোট দোয়া, রাসূল (সা.) এর সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত, যেগুলো আমাদের জীবনে আনে …

Powered by

Hosted By ShareWebHost