Breaking News
Home / ইতিহাস / খোদা প্রেমের অপূর্ব কাহিনী

খোদা প্রেমের অপূর্ব কাহিনী

(মুসলিম বিডি২৪.কম)

খোদা প্রেমের অপূর্ব কাহিনী

بسم الله الرحمن الرحيم

সমস্ত প্রশংসা রব্বে কারীমের জন্য

আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.) শুক্রপক্ষের বন্দিশালায় আবেগ ও বুদ্ধিমতার মূর্ত প্রতীক খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমর (রা.),

রোমের উদ্দেশ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি সৈন্যদল পাঠালেন শুক্ররা তাঁকেসহ কাফেলার সবাইকে বন্দী করে ফেলল।

এ মহৎ ব্যক্তিত্বকে যখন রোম সম্রাটের কাছে নিয়ে যাওয়া হল সম্রাট তাঁকে এ মর্মে প্রস্তাব দেয় যে, যদি তুমি খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ কর।

তবে আমার সাম্রাজ্যে তোমাকে অংশীদার করব হতভাগা সম্রাট ভেবেছিল যে, ধন-সম্পদ ও পদ মর্যাদার লিপ্সায় এ মরুচারী যাযাবর কপোকাত হয়ে যাবে।

কিন্তু সে কল্পনাও করতে  পারেনি যে, তার সম্মুখে দন্ডায়মান মুহাম্মদে আরবী (সাঃ) এর একজন ভক্ত ও পাগলপারা  অনুরক্ত সাহাবী।

যাঁর দরিদ্রতা ও অনটনের সম্মুখে একটি নয় দুটি নেয় হাজারো সম্রাটদের সাম্রাজ্য উৎসর্গ হয়ে থাকে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.) তার প্রস্তাবকে পরিষ্কার ভাষায় প্রত্যাখ্যান কারে দিলেন। এই বীরোচিত আচরণ ও পাহাড়সম অটলতার দরুন,

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.) তাই পেয়েছেন যা এ পৃথিবীতে হকপন্থী ও সত্য পথের পথিকরা পেয়ে থাকেন।

সম্রাট তাঁকে শূলে চড়িয়ে তীর মারতে মারতে নিঃশেষ করে ফেলার জন্য নির্দেশ জারি করল।

খোদা প্রেম কাকে বলে তার বুঝতে আমাদের এটাই যথেষ্ট

সিপাহি নির্দেশমত তাঁকে শূলে চড়াল সকল প্রস্তুতি শেষ কামানগুলো তাক করানো হল, তাঁকে ঝাযরা করে ফেলার জন্য। 

মৃত্যু এখন আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফার (রা.) সম্মুখে অপেক্ষমান কিন্তু সম্রাট এ দৃশ্য দেখে হতভম্ব ও বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইল যে, 

এ অকুতোভয় খোদা প্রেমিকের চেহারায় দুশ্চিন্তা বিষন্নতা ভীত  বা পেরেশানীর কোন ছাপ নেই চোখ মেলে স্মিত হাঁসি আর  প্রফুল্ল চেহারায় মৃত্যুকে,

অভিবাদন জানাতে সম্রাট ইতি পূর্বেে কাউকে দেখেনি সম্রাট তাঁর এ অবস্থা দেখে ভাবল তাঁকে এমন কোন ভয়ংকর পন্থায় হত্যা করতে হবে যে,

তাঁর মতো অকুতোভয় নির্ভীক ও সাহসী মানুষটিকে পর্যন্ত দিশেহারা ও পেরেশান করে ছাড়বে। 

এজন্য সম্রাট তাঁকে শুলকাষ্ট হতে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিল আর একটি ডেকে পানি ঢেলে তা ফুটানোর হুকুম করল। 

পানি ভর্তি ডেকটি যখন সিদ্ধ পানির উত্তাপে টগবগ করছে হযরত আব্দুল্লাহ (রা.) পবিত্র ও মহৎ কাফেলার একজন বন্দীসাহাবীকে এনে তাঁরই,

সম্মুখে ডেকে ছেড়ে দেওয়া হল  হযরত আব্দুল্লাহ (রা.) চেয়ে রইলেন যে, সঙ্গী কয়েদীকে ছেড়ে দেওয়া মাত্র তাঁর হাড্ডি থেকে মুহুর্তের মধ্যে গোশত খসে পড়ল।

আর ডেগ বিভৎসভাবে চকমক করতে লাগল পাউন্ড সম্রাট বলল– যদি তুই না করিস, তবে তকেও একই পরিণতির শিকার হতে হবে। 

কিন্তু এ ভয়ংকর দৃশ্যও আব্দুল্লাহ (রা.) কে তার সাহসী অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র টলাতে  পারেনি।

তাঁর মুখে একটিই কথা ছিল– এ টগবগে ফুটন্ত পানিতে পড়ে ঝলসে যাওয়া সম্ভব তবুও ঈমান ত্যাগ করা সম্ভব নয়। 

সৈন্যরা তাঁকেও কুড়াইতে নিক্ষেপ করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু এখানে এক অদ্ভুত দৃশ্যের অবতরণ হল।

আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.) চড়ে মুচকি হাসি আর প্রফুল্ল মনে মৃত্যুকে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন, তিনিই এখন কড়াইর কাছে যেতেই তাঁর চোখে অশ্রু ঝলমল করছি।

 তাঁকে অশ্রুশিক্ত দেখে সম্রাট মনে করছিল আমি বুঝি জয়লাভ করেছি সে তৎক্ষণাত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.) কে ফিরিয়ে আনল।

এবং কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করল।

প্রত্যত্তোরে আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা বললেন– আমি এজন্য আক্ষেপ করে ক্রন্দন করছিলাম যে,

হয় যদি আমার শত আত্মা থাকত আর সকল আত্মাকে আল্লাহর রাস্তায় এ নিদারুন আচরণের সামনে উৎসর্গ করে দিতে পারতাম।       

সম্রাট এ কথা শুনে অবাক হয়ে গেল সে লোমহর্ষক ও বিভৎস মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছ থেকে এরূপ জবাব আশা করিনি।

পরিশেষে সম্রাট ভাবল এমন লোকের শাস্তি তাঁকে হত্যা করা নয় তাকে জীবিত রাখাই হল আসল শাস্তি তাই সম্রাট তাকে লক্ষ্য করে বলল–

ঠিক আছে তুমি কেবল আমার ললাটে চুম্বন কর

তবেই তোমাকে মুক্ত করে দেব আব্দু্ল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.) বললেন –এর বিনিময়ে শুধু আমাকে নয়।

আমাদের সবাই কে মুক্ত করতে পারলে আমি তা করতে পারি  সম্রাট বলল–আমি তোমাদের সবাই কে মুক্ত করে দেব।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.) সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তার মস্তকে চুম্বন করলেন আর সকল সঙ্গীদের নিয়ে নিরাপদে ফিরে এলেন।

এ বরকতয় কাফেলা যখন হযরত ওমর (রা.)এর নিকট পৌঁছাল এবং তাদের বিস্তারিত তিনি া শুনলেন।

তৎক্ষণাত তিনি স্বস্থান হতে এড়িয়ে গেলেন এবং আব্দু্ল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.) ঈমানী জয় ততা শক্তি বিচক্ষণতা ও দুরদর্শীতাসহ কাফেলার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এবং অলৌকিকভাবে সদলবলে নিরাপদ ফিরে এসেছেন তার স্বকৃীতি ও পুরুষ্কার সরূপ তার কপালে চুম্বন করলেন।  আল–ইসাবাহ ২/২৮৮    

About saifur rahman

আমি হাফিজ মোঃ সাইফুর রহমান হিফয সম্পন্ন করেছি উমুরপুর বাজার টাইটেল মাদ্রাসা থেকে। বর্তমানে জামেয়া গহরপুরে অধ্যায়নরত আছি। আমার থানা বালাগঞ্জ জেলা সিলেট।

Check Also

ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করা বোকামি

ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করে বর্তমান নষ্ট করা বোকামি

(মুসলিমবিডি২৪ডটকম) আগামীকাল কি হবে তা নিয়ে চিন্তা করে নিজের বোঝা বাড়ানো নিতান্তই একটি বোকামী। কারণ, …

Leave a Reply

Powered by

Hosted By ShareWebHost