Breaking News
Home / আল হাদীস / হাদীস ও সুন্নাহের মধ্যে পার্থক্য

হাদীস ও সুন্নাহের মধ্যে পার্থক্য

(মুসলিমবিডি২৪ ডটকম)

হাদীস ও সুন্নাহের মধ্যে পার্থক্য

হাদীস ও সুন্নাহর মাঝে পার্থক্য! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন হাদীসে এ কথা বলেননি যে, তোমরা আমার হাদীসের অনুসরন করবে।

বরং বহু হাদীসে সুন্নতের অনুসরনের কথা বলেছেন। এখানে নমুনা সরূপ কিছু হাদীস উল্লেখ করা হল-

(1) ﻋَﻦْ ﻋِﺮْﺑَﺎﺽِ ﺑْﻦِ ﺳَﺎﺭِﻳَﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﺻَﻠَّﻰ ﻟَﻨَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺍﻟْﻔَﺠْﺮَ ﺛُﻢَّ ﺃَﻗْﺒَﻞَ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺎ ﻓَﻮَﻋَﻈَﻨَﺎ ﻣَﻮْﻋِﻈَﺔً ﺑَﻠِﻴﻐَﺔً ﺫَﺭَﻓَﺖْ ﻟَﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻋْﻴُﻦُ ﻭَﻭَﺟِﻠَﺖْ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺍﻟْﻘُﻠُﻮﺏُ ﻗُﻠْﻨَﺎ ﺃَﻭْ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻛَﺄَﻥَّ ﻫَﺬِﻩِ ﻣَﻮْﻋِﻈَﺔُ ﻣُﻮَﺩِّﻉٍ ﻓَﺄَﻭْﺻِﻨَﺎ ﻗَﺎﻝَ ﺃُﻭﺻِﻴﻜُﻢْ ﺑِﺘَﻘْﻮَﻯ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟﺴَّﻤْﻊِ ﻭَﺍﻟﻄَّﺎﻋَﺔِ ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﺒْﺪًﺍ ﺣَﺒَﺸِﻴًّﺎ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻣَﻦْ ﻳَﻌِﺶْ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻳَﺮَﻯ ﺑَﻌْﺪِﻱ ﺍﺧْﺘِﻠَﺎﻓًﺎ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻓَﻌَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﺴُﻨَّﺘِﻲ ﻭَﺳُﻨَّﺔِ ﺍﻟْﺨُﻠَﻔَﺎﺀِ ﺍﻟﺮَّﺍﺷِﺪِﻳﻦَ ﺍﻟْﻤَﻬْﺪِﻳِّﻴﻦَ ﻭَﻋَﻀُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﺑِﺎﻟﻨَّﻮَﺍﺟِﺬِ ﻭَﺇِﻳَّﺎﻛُﻢْ ﻭَﻣُﺤْﺪَﺛَﺎﺕِ ﺍﻟْﺄُﻣُﻮﺭِ ﻓَﺈِﻥَّ ﻛُﻞَّ ﻣُﺤْﺪَﺛَﺔٍ ﺑِﺪْﻋَﺔٌ ﻭَﺇِﻥَّ ﻛُﻞَّ ﺑِﺪْﻋَﺔٍ ﺿَﻠَﺎﻟَﺔٌ .

অর্থ:হযরত ইরবাজ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

আমি তোদেরকে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতে এবং (আমীরের কথা) শুনতে ও মানতে উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে একজন হাবশী গোলাম হয়।

তোমাদের মধ্য থেকে আমার পরে যে বেচে থাকবে সে অচিরেই বিভিন্ন মতবিরোধ দেখতে পাবে। তাই তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নাত ধর।

তা মজবূতভাবে আঁকড়ে ধর। এবং তোমরা (দ্বীনের মধ্যে )নতুন জিনিস থেকে বেচে থাক । (দ্বীনের মধ্যে)প্রতিটি নতুন জিনিসই বেদআত।

আর প্রতিটি বেদআতই ভ্রষ্টতা।(মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং ১৭১৪৭)

(2) ﻗﺎﻝ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﻗﺎﻝ ﻟﻲ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻳﺎ ﺑﻨﻲ ﺇﻥ ﻗﺪﺭﺕ ﺃﻥ ﺗﺼﺒﺢ ﻭﺗﻤﺴﻲ ﻭﻟﻴﺲ ﻓﻲ ﻗﻠﺒﻚ ﻏﺶ ﻷﺣﺪ ﻓﺎﻓﻌﻞ ﺛﻢ ﻗﺎﻝ ﻟﻲ ﻳﺎ ﺑﻨﻲ ﻭﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺳﻨﺘﻲ ﻭﻣﻦ ﺃﺣﻴﺎ ﺳﻨﺘﻲ ﻓﻘﺪ ﺃﺣﺒﻨﻲ ﻭﻣﻦ ﺃﺣﺒﻨﻲ ﻛﺎﻥ ﻣﻌﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ .

অর্থ:হযরত আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন,

যে হে প্রিয় বৎস!

যদি তুমি এভাবে সকাল ও সন্ধ্যা করতে পার যে, তোমার অন্তরে কারো জন্য কোন হিংসা নেই, তাহলে তা কর। অতপর তিনি আমাকে বললেন হে প্রিয় বৎস!

তা আমার সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। আর যে আমার সুন্নাতকে মহব্বত করল সে আমাকে মহব্বত করল । আর যে আমাকে মহব্বত করল সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।

(তিরমিযী হাদীস নং ২৬৮৩)

(3) ﻋَﻦْ ﻣَﺎﻟِﻚ ﺃَﻧَّﻪُ ﺑَﻠَﻐَﻪُ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ ﺗَﺮَﻛْﺖُ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﺃَﻣْﺮَﻳْﻦِ ﻟَﻦْ ﺗَﻀِﻠُّﻮﺍ ﻣَﺎ ﺗَﻤَﺴَّﻜْﺘُﻢْ ﺑِﻬِﻤَﺎ ﻛِﺘَﺎﺏَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺳُﻨَّﺔَ ﻧَﺒِﻴِّﻪِ .

অর্থ:হযরত মালেক (রহ) থেকে বর্ণিত,তার নিকট পৌছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

আমি তোমাদের মধ্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি

তোমরা যতক্ষন পর্যন্ত তা ধরে রাখবে পথভ্রষ্ট হবে না।আল্লাহ তাআলার কিতাব ও তার নবীর সুন্নাত ।

(মুআত্তা মালেক হাদীস নং ৬৮৫)

(4) ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ ﻗﺎﻝ Y ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﺃﻛﻞ ﻃﻴﺒﺎ ﻭﻋﻤﻞ ﻓﻲ ﺳﻨﺔ ﻭﺃﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﻮﺍﺋﻘﻪ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ .

অর্থ:হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

যে ব্যক্তি হালাল খাবে এবং সুন্নাতের উপর আমল করবে আর মানুষ যার ক্ষতি থেকে নিরাপদে থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।( তিরমিযী শরীফ হাদীস নং ২৫২০)

(5) ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻣَﺎ ﺃَﺣْﺪَﺙَ ﻗَﻮْﻡٌ ﺑِﺪْﻋَﺔً ﺇِﻟَّﺎ ﺭُﻓِﻊَ ﻣِﺜْﻠُﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟﺴُّﻨَّﺔِ ﻓَﺘَﻤَﺴُّﻚٌ ﺑِﺴُﻨَّﺔٍ ﺧَﻴْﺮٌ ﻣِﻦْ ﺇِﺣْﺪَﺍﺙِ ﺑِﺪْﻋَﺔٍ .

অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখনই কোন জাতি কোন বিদআত চালু করে তখন তাদের থেকে সমপরিমান সুন্নাত উঠিয়ে নেওয়া হয়।

তাই একটি সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা একটি বেদআত চালু করা থেকে(অনেক) উত্তম। (মুসনাদে আহমদ হাদীস নং ১৬৯৭০)

(6) ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻣﻦ ﺃﺣﻴﺎ ﺳﻨﺔ ﻣﻦ ﺳﻨﺘﻲ ﻗﺪ ﺃﻣﻴﺘﺖ ﺑﻌﺪﻱ ﻓﺈﻥ ﻟﻪ ﻣﻦ ﺍﻷﺟﺮ ﻣﺜﻞ ﻣﻦ ﻋﻤﻞ ﺑﻬﺎ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺃﻥ ﻳﻨﻘﺺ ﻣﻦ ﺃﺟﻮﺭﻫﻢ ﺷﻴﺌﺎ .

অর্থঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতসমূহের মধ্য থেকে এমন সুন্নাতকে জিন্দ করবে যা আমার পরবর্তীতে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল,

সে উক্ত সুন্নাতের উপর যাহারা আমল করিবে তাদের সকলের সমপরিমান ছাওয়াব পাবে। অথচ আমল কারীদের ছাওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।

(তিরমিযী শরীফ হাদীস নং ২৬৭৭)

(7) ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲٍ ﺃَﻥَّ ﻧَﻔَﺮًﺍ ﻣِﻦْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﺳَﺄَﻟُﻮﺍ ﺃَﺯْﻭَﺍﺝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﻋَﻦْ ﻋَﻤَﻠِﻪِ ﻓِﻰ ﺍﻟﺴِّﺮِّ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﻻَ ﺃَﺗَﺰَﻭَّﺝُ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀَ . ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﻻَ ﺁﻛُﻞُ ﺍﻟﻠَّﺤْﻢَ . ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﻻَ ﺃَﻧَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻰ ﻓِﺮَﺍﺵٍ . ﻓَﺤَﻤِﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﺛْﻨَﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ . ﻓَﻘَﺎﻝَ ‏« ﻣَﺎ ﺑَﺎﻝُ ﺃَﻗْﻮَﺍﻡٍ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻛَﺬَﺍ ﻭَﻛَﺬَﺍ ﻟَﻜِﻨِّﻰ ﺃُﺻَﻠِّﻰ ﻭَﺃَﻧَﺎﻡُ ﻭَﺃَﺻُﻮﻡُ ﻭَﺃُﻓْﻄِﺮُ ﻭَﺃَﺗَﺰَﻭَّﺝُ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀَ ﻓَﻤَﻦْ ﺭَﻏِﺐَ ﻋَﻦْ ﺳُﻨَّﺘِﻰ ﻓَﻠَﻴْﺲَ ﻣِﻨِّﻰ .

অর্থঃ হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একদল সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবিদেরকে তার গোপনে আমলের ব্যপারে জিজ্ঞাসা করলেন।

অতপর কেউ বলল,আমি মহিলাদেরকে বিবাহ্ করব না। কেউ বলল আমি আর গোশত খাব না। কেউ বলল আমি আর বিছানায় ঘুমাব না।

অতপর তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করলেন এবং ছানা পাঠ করলেন। আর বললেন মানুষের কি হল তারা এমন এমন বলে।

অথচ আমি নামাজ পড়ি এবং ঘুমাই। রোযা রাখি এবং ছেড়ে দেই।আর আমি মহিলাদেরকে বিবাহ্ করি। যে আমার সুন্নাত থেকে বিমূখ হবে সে আমার দলভূক্ত নয়।

(মুসলিম শরীফ হাদীস নং ৩৪৬৯)

(8) ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺇﻥ ﻟﻜﻞ ﻋﻤﻞ ﺷﺮﺓ ﻭﺇﻥ ﻟﻜﻞ ﺷﺮﺓ ﻓﺘﺮﺓ ﻓﻤﻦ ﻛﺎﻧﺖ ﺷﺮﺗﻪ ﺇﻟﻰ ﺳﻨﺘﻲ ﻓﻘﺪ ﺃﻓﻠﺢ ﻭﻣﻦ ﻛﺎﻧﺖ ﺷﺮﺗﻪ ﺇﻟﻰ ﻏﻴﺮﺫﻟﻚ ﻓﻘﺪ ﺃﻫﻠﻚ .

অর্থঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিটি আমলের একটি উত্থান আছে।

আর প্রতিটি উত্থানের বিরতি আছে। সুতরাং যার উত্থান আমার সুন্নাতের দিকে হবে সে সফলকাম।আর যার উত্থান আমার সুন্নাত ব্যতীত অন্য দিকে হবে সে ধবংস হবে।

(সহীহ ইবনে হিব্বান,হাদীস নং ১১)

————————————————————

-উপরে নমুনা সরূপ কিছু হাদীস উল্লেখ করা হল। যদিও এর থেকে কোন কোনটার মধ্যে কিছু দূর্বলতা রয়েছে। প্রতিটি হাদীসে সুন্নাতের অনুসরনের কথা বলা হয়েছে।

কোথাও হাদীসের অনুসরনের কথা বলা হয়নি।কারণ -হাদীস সহীহ হলেই সেটি আমল যোগ্য হয় না।

এ বিষয়ে সমস্ত মুহাদ্দিস, সমস্ত মুফাসসির, সমস্ত ফকীহ একমত যে, সকল সহীহ হাদীস আমল যোগ্য নয়।

এ সম্পর্কে আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলী (রহঃ) লিখেছেন:

ﺃﻣﺎ ﺍﻷﺋﻤﺔ ﻭ ﻓﻘﻬﺎﺀ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻓﺈﻧﻬﻢ ﻳﺘﺒﻌﻮﻥ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ ﺣﻴﺚ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻣﻌﻤﻮﻻ ﺑﻪ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﻭ ﻣﻦ ﺑﻌﺪﻫﻢ ﺃﻭ ﻋﻨﺪ ﻃﺎﺋﻔﺔ ﻣﻨﻬﻢ ﻓﺄﻣﺎ ﻣﺎ ﺍﺗﻔﻖ ﻋﻠﻲ ﺗﺮﻛﻪ ﻓﻼ ﻳﺠﻮﺯ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺑﻪ ﻷﻧﻬﻢ ﻣﺎ ﺗﺮﻛﻮﻩ ﻋﻠﻲ ﻋﻠﻢ ﺃﻧﻪ ﻻ ﻳﻌﻤﻞ ﺑﻪ

“ইমামগণ এবং হাদীস বিশারদ ফকীহগণ কোন একটি হাদীস সহীহ হলে, তার উপর তখনই আমল করেন,

যখন কোন সাহাবী, তাবেয়ী, অথবা তাদের নির্দিষ্ট কোন একটি দল থেকে হাদীসটির উপর আমলের প্রমাণ পাওয়া যায়।

আর সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) যে হাদীসের উপর আমল না করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, তার উপর আমল করা জায়েয নেই;

কেননা তার উপর যে আমল করা যাবে না, সেটা জেনেই তারা হাদীসটি পরিত্যাগ করেছেন।” ————————————————————

— ইমামগণের বক্তব্য , ‘হাদীস সহীহ হলে সেটি আমার মাযহাব’ তাদের এ বক্তব্যের দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ﺇﺫﺍ ﺻﻠﺢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻟﻠﻌﻤﻞ ﺑﻪ ﻓﻬﻮ ﻣﺬﻫﺒﻲ “অর্থাৎ “হাদীসটি যখন আমল যোগ্য হবে, তখন সেটি আমার মাযহাব হব। ——————————

——————————— #মুসলিমরা হাদীস নয় বরং সুন্নাহ্ অনুসরণ করবে।

সব হাদীস সুন্নাহ্ নয়, কিন্তু সব সুন্নাহ হাদীস

হাদীস ও সুন্নাহ এক জিনিস নয়, বরং এ দুইয়ের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে । উম্মতের জন্য দ্বীনের উপর চলার অনুসরনীয় পথ কে সুন্নাহ বলে ।

আর ” প্রত্যেক সুন্নাহই হাদীস কিন্তু সকল হাদীসই সুন্নাহ নয়।” অর্থাৎ দ্বীনের উপর চলার জন্য উম্মত সকল হাদীসকেই অনুসরন বা আমল করতে পারবে না যদিও সেই হাদীসটি “সহীহ্ ” হয়।

কেননা অনেক সহীহ্ হাদীস আছে যা অন্য সহীহ হাদীস দ্বারা রহিত হয়ে গিয়েছে বা তা পূর্বের বিধান ছিল কিন্তু পরবর্তীতে রসূলুল্লাহ (সঃ) এর হুকুম দ্বারা রহিত হয়ে গিয়েছে ।

নিম্নে কিছু হাদীস উদাহারন স্বরুপ তুলে ধরলামঃ

১. সহীহ্ বুখারীর কিতাবুল জানায়েযের ১৩০৭ থেকে ১৩১৩ নং হাদীস সমূহ । এসব হাদীসে জানাযা বহন করে নিয়ে যেতে দেখলে সকলকে দাঁড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে ।

অথচ এই বিধান এই বিধান অন্যান্য সহীহ্ হাদীস দ্বারা রহিত হয়ে গিয়েছে ।ম

( উমদাতুল কারী ৬/১৪৬)

২. ইসলামের প্রথম যুগে নামাযরত অবস্থায় কথা বলা, সালাম দেওয়া , সালামের উত্তর দেওয়া সবই বৈধ ছিল । কিন্তু পরবর্তীতে এই বিধান রহিত হয়ে যায়।

( সহীহ্ বুখারী হা. নং- ১১৯৯, ১২০০)

৩. ইসলামের প্রথম যুগে বিধান ছিল যে, আগুনে রান্নাকৃত খাদ্য গ্রহন করলে উযু ভেঙ্গে যাবে । কিন্তু পরবর্তীতে এই বিধান রহিত হয়ে যায় ।

( সহীহ্ বুখারী, হা.নং- ২০৮)

৪. নবীজী ( সঃ) হিজরতের পর মদীনায় ১৬/১৭ মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামায আদায় করেছেন । কিন্তু পরবর্তীতে এই বিধান রহিত হয়ে যায়।

( সহীহ্ বুখারী হা. নং- ৭২৫২)

এগুলো সবই সহীহ্ হাদীস কিন্তু সুন্নাহ নয়। অর্থাৎ এই হাদীসগুলো উম্মতের জন্য অনুসরনীয় নয়।

৫. এমন অনেক হাদিস আছে যার বিধান নবীজী (সঃ) এর সঙ্গে নির্দিষ্ট । উম্মতের জন্য তার উপর আমল করা বৈধ নয়।

যেমনঃ বহু হাদিসে রসূলুল্লাহ (সঃ) এর ১১টি বিবাহের কথা এবং মহর দেওয়া ছাড়া বিবাহ করার কথা এসেছে। তো এগুলো হাদিস বটে কিন্তু উম্মতের জন্য অনুসরনীয় নয় ।

( সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সীরাতি খাইরিল ইবাদ ১১/ ১৪৩-২১৭)

৬. হাদীসে এমন অনেক আমলের কথা বর্ণিত আছে যা রসূলুল্লাহ (সঃ) কখনো কোন বিশেষ প্রয়োজনে করেছেন ।

যেমনঃহয়ত কোমরে ব্যথা থাকার কারনে কিংবা এস্তেন্জা করার স্থানে বসার দ্বারা শরীরে বা কাপড়ে নাপাকি লাগার অশংঙ্কায় তিনি সারা জীবনে মাত্র ২বার দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন।

কিন্তু হাদিসের বর্ণনায় এসব কারনের কথা উল্লেখ নেই । শুধুমাত্র দাঁড়িয়ে পেশাব করার কথা আলোচিত হয়েছে।

তো এই হাদিসের উপর আমল করে কি দাঁড়িয়ে পেশাব করাকে সুন্নাহ বলা যাবে ??? অনুরুপভাবে রসূলুল্লাহ (সঃ) ইহরাম অবস্থায় এবং রোযা অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন।

( সহীহ্ বুখারী, হা.নং- ১৯৩৮)

তাই বলে কি ইহরাম ও রোযা অবস্থায় শিঙ্গা লাগানোকে সুন্নাহ বলা যাবে ???

৭. কাজটি বৈধ একথা বুঝানোর জন্যও রসূলুল্লাহ (সঃ) অনেক কাজ করেছেন।

যেমনঃতিনি একবার তার নাতনী উমামা বিনতে যয়নবকে কোলে নিয়ে নামায পড়িয়েছেন।( সহীহ্ বুখারী,হা. নং- ৫১৬)

আবার তিনি রোযা অবস্থায় তার এক স্ত্রীকে চুম্বন করেছেন ।

( সহীহ্ বুখারী ,হা.নং- ১৯২৮) ।

এই উভয় ঘটনাই হাদিসে এসেছে । এর দ্বারা রসূলুল্লাহ (সঃ) বুঝাতে চেয়েছেন যে, প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শিশ্ত কোলে নিয়ে নামায পড়া বা পড়ানো যেতে পারে এবং রোযা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা বৈধ, এতে রোযার কোন ক্ষতি হবে না ।

তাই বলে কি সব সময় শিশ্ত কোলে নিয়ে নামায পড়ানোকে কিংবা রোযা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা সুন্নাহ বলা যাবে ?

উপর্যুক্ত আলোচনার দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, সহীহ হাদিসের দাবিদার ” আহলে হাদীস ” নামটিই সঠিক নয় । কারন রসূলুল্লাহ (সঃ) কোন বর্ননায়ই উম্মতকে হাদীস মানতে বলেন নাই , বলেছেন ” সুন্নাহ ” মানতে ।

About Admin

আমার নাম: এইচ.এম.জামাদিউল ইসলাম ঠিকানা: বালাগঞ্জ,সিলেট। আমি কওমি মাদ্রাসায় কোরাআনের খেদমত করতেছি, পাশাপাশি MuslimBD24.Com সাইটের প্রধান লেখক ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। অনলাইন সম্পর্কে মোটামুটি জ্ঞান থাকায়, তাই সময় পেলে দ্বীন ইসলাম প্রচারের সার্থে ইসলামিক কিছু পোস্ট লেখালেখি করি। যাতে করে অনলাইনেও ইসলামিক জ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞানহীন মানুষ, ইসলামিক জ্ঞান সহজে অর্জন করতে পারে। একজন মানুষ জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নিজের জীবনকে ইসলামের পথে চালাতে গেলে ইসলাম সম্পর্কে যে জ্ঞান অর্জন করার দরকার,ইনশা-আল্লাহ এই ওয়েব সাইটে মোটামুটি সেই জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। যদি সব সময় সাইটের সাথে থাকে। আর এই সাইটটি হল একটি ইসলামিক ওয়েব সাইট । এ সাইটে শুধু ইসলামিক পোস্ট লেখালেখি হবে। আল্লাহ তায়ালার কাছে এই কামনা করি যে, আমরা সবাইকে বেশী বেশী করে ইসলামিক জ্ঞান শিখার ও শিখানোর তাওফিক দান করুন, আমিন।

Check Also

হাদীসের সংজ্ঞা ও পরিচয়

রাসূল (সা:)-কথা, ও কাজ ও সমর্থনকে  বলা হয়, অর্থাৎ রাসূল হিসেবে হুজুর যে কথা বলেছেন, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »

Powered by themekiller.com