(মুসলিমবিডি২৪ডটকম)
![]()
স্বামীর অর্থনৈতিক দুঃসময়ে স্ত্রীর যা করণীয়
সংসার কেবল সুখের গল্প নয়। এখানে সচ্ছলতার পাশাপাশি আসে অভাব, অনিশ্চয়তা ও দুঃসময়। বিশেষ করে যখন স্বামী অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন,
তখন সেই চাপ শুধু তার একার উপর থাকে না—পুরো পরিবারের উপর পড়ে। এই সময় স্ত্রীর ভূমিকা হয়ে ওঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
স্ত্রীর একটি কথা, একটি আচরণ, একটি সিদ্ধান্ত স্বামীকে ভেঙেও দিতে পারে, আবার দাঁড় করিয়েও দিতে পারে।
গবেষণা, সমাজবিজ্ঞান এবং ইসলাম—সবই বলে, দুঃসময়ে স্ত্রীর সঠিক ভূমিকা পরিবারকে টিকিয়ে রাখার প্রধান শক্তি।
১. ধৈর্য ও মানসিক সমর্থন দেওয়া
অর্থনৈতিক দুঃসময়ে একজন স্বামী সবচেয়ে বেশি ভোগেন মানসিক চাপ, অপরাধবোধ ও আত্মসম্মানহীনতায়।
এই সময় স্ত্রীর প্রথম করণীয় হলো ধৈর্য ধারণ করা এবং স্বামীকে মানসিক নিরাপত্তা দেওয়া।
• গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষ দাম্পত্য সম্পর্কে মানসিক সমর্থন পান, তারা অর্থনৈতিক সংকট থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হন।
•স্ত্রীর সহানুভূতিশীল আচরণ কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) কমাতে সহায়তা করে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায়।
আরো জানতে ক্লিক করুন
২.অভিযোগ ও তুলনা থেকে বিরত থাকা
এই সময়ে অনেক স্ত্রী না বুঝেই অন্যের সাথে তুলনা করেন—“অমুকের স্বামী কত ভালো চলছে”, “আগে কত ভালো ছিল”। এসব কথা স্বামীর মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে।
√পারিবারিক মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, অর্থনৈতিক দুঃসময়ে অভিযোগমূলক আচরণ দাম্পত্য কলহ ৩ গুণ বাড়িয়ে দেয়।
√তুলনা একজন পুরুষের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়, যা পুনরুদ্ধারের পথে বড় বাধা।
৩. ব্যয়সংযম ও বাস্তববাদী জীবনযাপন
স্ত্রী যদি এই সময় বাস্তবতা বোঝেন এবং ব্যয় কমাতে সহযোগিতা করেন, তবে সেটি স্বামীর জন্য বিশাল মানসিক স্বস্তি।
✓গবেষণায় প্রমাণিত, পরিবারভিত্তিক আর্থিক পরিকল্পনায় স্ত্রী সক্রিয় হলে সংকটকালীন ঋণগ্রস্ততা কমে।
✓ছোট ছোট ত্যাগ—অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, বিলাসিতা বাদ দেওয়া—পরিবারকে টিকিয়ে রাখে।
৪. স্বামীর সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা
দুঃসময়েও স্বামীকে সন্তানদের সামনে, আত্মীয়দের সামনে অসম্মান করা উচিত নয়। সম্মান হারালে একজন পুরুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
∆সমাজবিজ্ঞানী গবেষণায় দেখা গেছে, স্বামীর প্রতি স্ত্রীর সম্মানবোধ পুরুষের কর্মপ্রেরণা বাড়ায়।সম্মান একজন পুরুষের আত্মপরিচয়ের মূল স্তম্ভ।
৫. দোয়া ও আধ্যাত্মিক শক্তি জোগানো
শুধু চেষ্টা নয়, দোয়াও গুরুত্বপূর্ণ। স্ত্রী যদি স্বামীর জন্য আন্তরিক দোয়া করেন, তা মানসিক শক্তি জোগায়।
° গবেষণায় দেখা যায়, ধর্মীয় চর্চা ও প্রার্থনা মানসিক স্থিতিশীলতা বাড়ায়।বিশ্বাস মানুষের মধ্যে আশা ও ধৈর্য তৈরি করে।
ইসলাম কী বলে?
ইসলাম দুঃসময়ে স্ত্রীর ধৈর্য, সহানুভূতি ও সহযোগিতাকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে।
© কুরআনে বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য পোশাকস্বরূপ—অর্থাৎ রক্ষা ও শান্তির মাধ্যম।
© হাদিসে এসেছে, স্ত্রী যদি স্বামীর কষ্টে ধৈর্য ধারণ করে ও সহযোগিতা করে, তবে তা আল্লাহর কাছে সাওয়াবের কারণ।
© ইসলাম স্ত্রীকে স্বামীর দুঃসময়ে অভিযোগকারী নয়, বরং সঙ্গী ও সহযোদ্ধা হতে উৎসাহ দেয়।
অর্থনৈতিক দুঃসময় আসলে একটি পরীক্ষা—স্বামীর জন্য যেমন, স্ত্রীর জন্যও তেমন।
এই সময় স্ত্রীর ধৈর্য, সমর্থন, সম্মান ও বাস্তববাদী আচরণ শুধু স্বামীকে নয়, পুরো পরিবারের জন্য সফলতা বয়ে আনে।
গবেষণা, সমাজ এবং ইসলাম—সবকিছুই এক কণ্ঠে বলে, দুঃসময়ে পাশে থাকা স্ত্রীই একটি সংসারের সবচেয়ে বড় শক্তি।
অর্থ আসবে-যাবে, কিন্তু দুঃসময়ে পাওয়া ভালোবাসা ও সমর্থন সারাজীবন মনে থাকে।

গবেষণা ও তথ্যসূত্র
কুরআন ও হাদিসভিত্তিক ইসলামি পারিবারিক জীবনব্যবস্থা বিষয়ক গ্রন্থ।
দাম্পত্য সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে পারিবারিক মনোবিজ্ঞান গবেষণা
সামাজিক আচরণ ও বৈবাহিক স্থিতিশীলতা বিষয়ক সমাজবিজ্ঞান গবেষণা
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ও পারিবারিক সমর্থন সংক্রান্ত মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণা
MuslimBD24.Com Islamic blog site Bangladesh

