Breaking News
Home / জরুরী মাসাইল / প্রশ্নোত্তর পর্ব / সেলফ ডিজিটাল বিজনেস প্ল্যাটফর্ম কেন হারাম

সেলফ ডিজিটাল বিজনেস প্ল্যাটফর্ম কেন হারাম

()

সেলফ বিজনেস কেন হারাম

 ম্প্রতি জামেয়া হুসাইনিয়া গহরপুর মাদ্রাসা সিলেট  এর প্রধান মুফতি হাফিঃ ফতওয়া দিয়েছেন “সেল্ফ বিজনেস এটা সম্পূর্ণ হারাম।”

ন হারাম এই ব্যাপারে কয়েকটি পয়েন্ট এখানে আলোচনা করব, বিস্তারিত জানতে ফতওয়া লিংক চেয়ে নিবেন।

সেল্ফ বিজনেস ভয়ংকরএক হারাম ফাদ !!!

 

এখানে যারা কাজ করে তাদের বেশির ভাগই হচ্ছে মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র আর কিছু মুফতি ট্যাগ লাগানো লোকও আছে,

যার ে নতুন যখন কেউ যুক্ত হতে যায় তারা জিজ্ঞেসা করে এইটা কি ?তারা বলে হ্যাঁ হালাল।

হালাল না হলে কি এতো মানুষেরা এই কাজ করতো? ব্যাস এতেই হয়ে গেলো আর কোন খোজ খবর না নিয়েই অনেকে সেল্ফে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

 

আসুন পয়েন্ট নিয়ে সামান্য আলোচনা করা যাক।

 

১ম পয়েন্ট:

১/ সূরত- সেল্ফ তথা এমএলএম এই কোম্পানীটির প্রথম যে শর্তটি ‘সেটি হচ্ছে ৫০ টাকা দিয়ে সেখানে কেউ ডুকলো।

পরবর্তিতে কাজ করতে চাইলে ২০০০ হাজার টাকা দিয়ে কাজ শুরু করবে।

একজন লোক যতজনকে তাদের কোম্পানীতে ঢুকাতে তার বিনিময়ে সে ৩৫০ টাকা করে কমিশন পাবে।

এটাই মূল ব্যাবসার কাজ। তাছাড়া তাদের রেসেলিং কিছু প্রডাক্ট রয়েছে যেগুলি ক্রয় বিক্রয় করতে পারলে সেখান থেকেও কমিশন পাবে উক্ত ব্যাক্তি।

 

এবার আসুন…!

শরিয়তে তাদের এই ব্যাবসার সূরত কোন ভাবে জায়েজ কিনা আমরা জানি। নাকি এ সূরত হারাম।

প্রথমত-শ্রমবিহীন বিনিময় এবং বিনিময়বিহীন শ্রম:

মাল্টি লেভেল মার্কেটিং শরী‘আতের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হওয়ার অন্যতম একটি হলো

এতে ‘শ্রমবিহীন বিনিময় এবং বিনিময়বিহীন শ্রম' রয়েছে যা ইসলামি আইন সমর্থন করে না।

 

২য় পয়েন্ট:

 

বিনিময়বিহীন শ্রমের বিষয়টি ফুটে উঠে তাদের প্রচলিত সে নীতিতে যাতে রয়েছে,

একজন ডিস্ট্রিবিউটর (পরিবেশক) এর ডান ও বাম উভয় দিকের নেট না চললে সে কমিশন পাবে না।

অর্থাৎ কেউ যদি নির্ধারিত পয়েন্টের একজন ক্রেতা জোগাড় করে কিন্তু আরেকজন জোগাড় করতে অক্ষম হয়,

তবে লোকটি কমিশন থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হবে। এমনিভাবে কেউ যদি দু'জন ক্রেতাও কোম্পানিকে এনে দেয়,

কিন্তু তারা কোম্পানির নির্ধারিত পয়েন্ট থেকে কম পয়েন্টের মালামাল ক্রয় করে তবে এর জন্যও ঐ ব্যক্তি কমিশন পায় না।

ফলে এটি বিনিময়বিহীন শ্রমে পরিণত হয় যা ইসলামি আইনে

হাদীসে কুদসীতে রয়েছে, আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন: ‘‘কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির সাথে ঝগড়া করবো।

(এক) যে ব্যক্তি আমার নামে ওয়াদা করে তা করে। (দুই) যে ব্যক্তি কোনো স্বাধীন ব্যক্তিকে বিক্রয় করে তার মূল্য ভোগ করে।

এবং (তিন) যে ব্যক্তি কোনো শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করে তার কাছ থেকে কাজ আদায় করার পর মজুরী পরিশোধ করে না'' [সহীহ বুখারী : ২২২৭]

 

৩য় পয়েন্ট:

 

ইসলামি শরী‘আতে ‘একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কাজ করতে না পারলে পারিশ্রমিক পাবে না' এ ধরনের শর্ত দিয়ে কোনো চুক্তি করা বৈধ নয়।

আল্লামা ইবন রুশদ তার ‘আল-মুকাদ্দামাত' গ্রন্থে বলেছেন: ‘‘কাপড়ের নির্দিষ্ট সংখ্যার ওপর এ চুক্তি করে লোক নিয়োগ দেয়া যে,

‘কাপড়ের এত সংখ্যক বিক্রয় করতে না পারলে সে কোনো পারিশ্রমিক পাবে না' তাহলে চুক্তিটি বৈধ হবে না।

কারণ এরূপ ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা কর্মচারীর অল্প সংখ্যক বিক্রয় দ্বারা যে উপকৃত হচ্ছে তা তার জন্য বৈধ হবে না।''

 

আর শ্রমবিহীন বিনিময়টি সুন্দরভাবে ফুটে উঠে তাদের ভিত্তিগত দিকে যা ইতোপূর্বে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে।

সংক্ষেপে বলা যায়, তাদের নীতিমালা রয়েছে, কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত পরিমাণ পণ্য খরিদান্তে ডিস্ট্রিবিউটর (পরিবেশেক) হওয়ার পর

যদি সে দু'জন ক্রেতা নিয়ে আসে এবং তারা প্রত্যেকে আরও দু'জনকে এবং সে চার জন আরও আটজনকে কোম্পানির সাথে যুক্ত করে,

তবে প্রথম ব্যক্তি এবং দ্বিতীয় লেভেলের দু'ব্যক্তি নিম্ন লেভেলের আট ব্যক্তি ক্রেতা-পরিবেশকের সুবাদেও কোম্পানি থেকে কমিশন পেয়ে থাকে।

অথচ এ আটজনের কাউকেই প্রথম ব্যক্তি ও দ্বিতীয় লেভেলের দু'ব্যক্তি কোম্পনির সাথে যুক্ত করে নি;

বরং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর নীতি অনুযায়ী এরা কোম্পানির সাথে যুক্ত হয়েছে তাদের সরাসরি ওপরের ব্যক্তির রেফারেন্সে

এবং এর জন্য ঐ ব্যক্তি নির্ধারিত হারে কমিশনও পাবে। এটি সুস্পষ্টই শ্রমবিহীন বিনিময় যা ইসলামে নিষিদ্ধ।

 

৪র্থ পয়েন্ট:

 

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট যে, তাদের এ কারবারে বিনিময়বিহীন শ্রম ও শ্রমবিহীন বিনিময় দু'টিই পুরোপুরিভাবে বিদ্যমান রয়েছে যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

এমএলএম কারবারগুলোতে ডাউনলেভেল থেকে আপ লেভেলে যে কমিশন আসে তা বিনিময়বিহীন হাসিল হয়।

কারণ ১ম স্তরের সরাসরি জোগাড় করা ক্রেতারা ছাড়া ২য় স্তরের পরবর্তী স্তরগুলোতে যে সকল ব্যক্তি যুক্ত হয়,

তারা কোম্পানিতে যোগ হয়েছে অন্যান্য লোকজন কর্তৃক এবং তাদের স্বাক্ষরে।

 

সুতরাং যে কমিশন বা পারিশ্রমিক নিম্নস্তর থেকে আসছে তা বিনিময়হীন হওয়ার কারণে

‘আকলু মালিল গায়র বিল (বাতিল)' তথা (অন্যের সম্পদ বাতিল পন্থায় আহরণ) এর অন্তর্ভুক্ত। সে হিসাবে এটি হারাম।

 

উপরন্ত আলোচনা দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেলো এরকম সূরতে বাংলাদেশে অগনিত প্লাটফর্ম রয়েছে তার সবগুলিই হারামের সূরতে নাজায়েজ।

والله اعلم



আরো পড়ুনঃ

মেয়েরা কিভাবে নিজেদের সংশোধন করবে, আপনি কাকে বিয়ে করবেন, স্ত্রীলোক রাগান্বিত হলে কি করা উচিৎ 

About আবদুল্লাহ আফজাল

হাফিজ মাওঃ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আফজাল। ২০১২ সনে হিফজ সম্পন্ন করেন। উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন২০১৬ সনে। দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন ২০২০ সনে। ঠিকানা: বালাগঞ্জ, সিলেট। মোবাইল নাম্বার: 9696521460 ইমেইল:hafijafjal601@gmail.com সকল আপডেট পেতে এবং ওয়েবসাইটে লিখা পাঠাতে ফেসবুক পেজ?MD AFJALツ ফলো করুন।

Check Also

মানুষের অবয়ব দিয়ে তৈরি রোবট জায়েয হবে কি না

মানুষের অবয়ব দিয়ে তৈরি রোবট জায়েয হবে কি না

(মুসলিমবিডি২৪ডটকম) প্রশ্নঃ  মানুষের অবয়ব দিয়ে তৈরি রোবট যদি কোন ভালো কাজে ব্যবহার করা হয়, যেমন মানুষের …

Powered by

Hosted By ShareWebHost