Breaking News
Home / ই- কমার্স / উলামায়ে কেরাম ও ব্যবসা — শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি পর্যালোচনা

উলামায়ে কেরাম ও ব্যবসা — শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি পর্যালোচনা

উলামায়ে কেরাম ও ব্যবসা

উলামায়ে কেরাম ও ব্যবসা — শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি পর্যালোচনা

 

ভূমিকাঃ

 

উলামা—যাদের কাঁধে দ্বীনের বোঝা, নসীহতের দায়িত্ব, উম্মাহর দিশা দেখানোর ভার।

কিন্তু তারা কি কেবল মসজিদ-মিম্বারে সীমাবদ্ধ থাকবেন? নাকি জীবিকার জন্য ব্যবসার পথও তাদের জন্য খোলা? এই প্রশ্নটি বহুদিন ধরেই আলোচনায়।

অনেকেই বলেন, উলামা শুধু ইলম ও দাওয়াহতেই থাকুন; অন্যদিকে কেউ বলেন, হালাল উপার্জনে কোনো লজ্জা বা বাধা নেই—EVEN IF YOU’RE A SCHOLAR.

এই প্রবন্ধে আমরা আলোচনা করবো—উলামাদের ব্যবসায় যুক্ত থাকার পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তিগুলো, শরীয়তের আলোকেও পর্যালোচনা করবো।

 

ব্যবসার পক্ষে যুক্তি:

 

১. রাসূল (সা.) নিজেও ছিলেন একজন ব্যবসায়ী: 

শুধু নবুওয়তের আগে নয়, বরং নবুয়তের পরও তাঁর জীবনীতে ব্যবসায়িক প্রজ্ঞা ও লেনদেনের চর্চা দেখা যায়।

 

২. সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন সফল ব্যবসায়ী:

আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.), উসমান ইবনে আফফান (রা.) প্রমুখ সাহাবী ছিলেন ধনী ব্যবসায়ী—এবং একইসাথে ইসলাম প্রচারে অগ্রগামী।

 

৩. আত্মনির্ভরশীলতা:

উলামাদের হালাল ব্যবসায় জীবিকা অর্জনের মাধ্যমে তারা কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে সম্মানজনকভাবে জীবন যাপন করতে পারেন। এতে দ্বীনি দাওয়াহও হয় স্বাধীন।

আন্তর্জাতিক অনলাইনে কোরআন শিক্ষা – আপনার ঘরে বসেই

৪. ফিতনার রক্ষা:

জীবিকার অভাবে বহু আলেমকে দুর্নীতিপরায়ণ/উপহার নির্ভর হতে দেখা যায়। ব্যবসা থাকলে তারা নিজের আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে পারেন।

 

বিপক্ষের যুক্তি:

 

১. ব্যবসার ব্যস্ততা ইলমী কাজে বাধা হতে পারে:

 

উলামা যদি পুরোপুরি ব্যবসায় মনোযোগ দেন, তবে দ্বীনি শিক্ষাদান, গবেষণা ও দাওয়াহ ব্যাহত হতে পারে।

 

২. লাভ-ক্ষতির টানাপোড়েনে দ্বীনের স্বার্থ বিসর্জন:

ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার জন্য কখনো কখনো নীতিগত আপস বা সত্য বলা থেকেও বিরত থাকা লাগতে পারে।

 

৩. জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে:

মানুষ আলেমদেরকে ইলমী ও আত্মিক রাহবার মনে করে। যদি তারা দুনিয়াবি লাভের পেছনে দৌড়ান, তাহলে সেই সম্মান ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

 

সমাধান ও ভারসাম্য:

 

শরীয়ত ব্যবসা নিষিদ্ধ করেনি, বরং ফিকহের কিতাবগুলোতেই বেচাকেনার বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

আসলে ইলম ও আমলের ভারসাম্য রক্ষা করেই একজন আলেম ব্যবসা করতে পারেন

উদাহরণ হতে পারেন হযরত ইমাম আবু হানিফা (রহ.)—একজন বিজ্ঞ আলেম ও সফল ব্যবসায়ী ছিলেন।

উপসংহার:

 

উলামায়ে কেরাম ব্যবসায় জড়াতে পারেন, যদি তা হালাল হয় এবং দ্বীনি দায়িত্বকে প্রভাবিত না করে।

এতে করে তারা যেমন আত্মনির্ভর হতে পারবেন, তেমনি উম্মাহকে বাস্তব জীবনের সঠিক দিকনির্দেশনাও দিতে পারবেন।

দ্বীনের আলোকিত মানুষরাই যদি হালাল ব্যবসায় না থাকেন, তবে তা দখল করবে অন্যেরা—যাদের হাতে দুনিয়া থাকবে, কিন্তু দীন থাকবে না।

 

তাই উলামাদের উচিত হালাল ব্যবসা করে অন্যদের জন্যও রোল মডেল হওয়া।

✍️ হাঃ মাওঃ আব্দুল্লাহ্ আফজাল

About আবদুল্লাহ আফজাল

হাফিজ মাওঃ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আফজাল। ২০১২ সনে হিফজ সম্পন্ন করেন। উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন২০১৬ সনে। দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন ২০২০ সনে। ঠিকানা: বালাগঞ্জ, সিলেট। মোবাইল নাম্বার: 9696521460 ইমেইল:hafijafjal601@gmail.com সকল আপডেট পেতে এবং ওয়েবসাইটে লিখা পাঠাতে ফেসবুক পেজ👉MD AFJALツ ফলো করুন।

Check Also

ফেসবুক

ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন শর্ত ২০২৫: জানুন আয়ের নতুন সম্ভাবনা

ফেসবুক এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং একটি শক্তিশালী আয়ের প্ল্যাটফর্ম। আপনি যদি নিয়মিত …

Powered by

Hosted By ShareWebHost