(মুসলিম বিডি২৪ডটকম)

ভূমিকা
বালেগ হওয়ার পর একজন নারীর জরায়ু থেকে সাধারণত তিন প্রকার রক্ত নির্গত হতে পারে— হায়েয, নিফাস ও ইস্তিহাযা।
এই লেখায় আমরা ইস্তিহাযা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ফাতাওয়া ও মাসায়েল সংক্ষিপ্ত, গোছানো ও প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন করবো।
ইস্তিহাযার পরিচয়
হায়েয ও নিফাসের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে যে রক্ত দেখা দেয় তাকে ইস্তিহাযা বলা হয়। ফিকহের দৃষ্টিতে ইস্তিহাযার হুকুম পবিত্র অবস্থার মতো।আল-বাহরুর রায়েক (১/২০০):
قال الأزهري: الاستحاضة سيلان الدم في غير أوقاته المعتادة”
ইস্তিহাযার রক্ত মূলত অসুস্থতার রক্ত। এটি অনেক নারীর ক্ষেত্রে অনিয়মিতভাবে হয়ে থাকে।
এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো দুআ বা আমল নেই; বরং প্রয়োজন হলে দক্ষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই উত্তম।
গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি
১. দুই হায়েযের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সময় ১৫ দিন। এই ১৫ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে রক্ত দেখা দিলে তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।
২. ধারাবাহিক ইস্তিহাযার ক্ষেত্রে অভ্যাসের বিধান।যে নারীর ধারাবাহিকভাবে ইস্তিহাযার রক্ত আসে,
তার পূর্ব নির্ধারিত হায়েযের অভ্যাসের দিনগুলো হায়েয হিসেবে গণ্য হবে এবং বাকি দিনগুলো ইস্তিহাযা হবে।আল-বাহরুর রায়েক (১/২২৩):
ولو زاد الدم على أكثر الحيض والنفاس فما زاد على عادتها استحاضة…”
হায়েয ও নিফাসের সর্বোচ্চ সময়
- হায়েযের সর্বোচ্চ সময়: ১০ দিন
- নিফাসের সর্বোচ্চ সময়: ৪০ দিন
এই সময়সীমা অতিক্রম করে রক্ত দেখা দিলে– পূর্ব থেকে অভ্যাস থাকলে: অভ্যাসের অতিরিক্ত সব রক্ত ইস্তিহাযা
অভ্যাস না থাকলে: হায়েযে ১০ দিন, নিফাসে ৪০ দিন গণনা হবে; অতিরিক্ত দিনগুলো ইস্তিহাযা
ইস্তিহাযার দিনগুলোতে ইবাদতের বিধান
ইস্তিহাযা অবস্থায় নারী—
- নামায আদায় করবে
- রোজা রাখবে
- কুরআন তিলাওয়াত করবে
- তাওয়াফ ও অন্যান্য ইবাদত করবে
কারণ, ইস্তিহাযা নামায-রোজা ও ইবাদতের ক্ষেত্রে বাধা নয়।

উযুর বিধান
ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্তে নতুন উযু করবে। ওই উযু দিয়ে ঐ ওয়াক্তের মধ্যে ফরজ, নফল নামায, কুরআন তিলাওয়াত, তাওয়াফ ইত্যাদি করতে পারবে।
অন্য কোনো উযু ভঙ্গকারী কারণ না ঘটলে ওয়াক্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত উযু বহাল থাকবে।
ওয়াক্ত শেষ হলে উযুও শেষ হয়ে যাবে; পরবর্তী ওয়াক্তে নতুন করে উযু করতে হবে। তানবীরুল আবসার ও দুররুল মুখতার:
ودم استحاضة حكمه كرعاف دائم… لا يمنع صوماً ولا صلاة ولا جماعاً”
মাজুর (অপারগ) নারীর বিধান
যদি ইস্তিহাযার রক্ত এমনভাবে ধারাবাহিক আসে যে, পুরো ওয়াক্তের মধ্যেও এতটুকু সময় পাওয়া যায় না যাতে পবিত্র হয়ে ফরজ নামায আদায় করা যায়—তাহলে ঐ নারী মাজুর (অপারগ) হিসেবে গণ্য হবে।
মাজুরের হুকুম
প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্ত শুরু হলে নতুন উযু করবে,ঐ উযু দিয়ে ঐ ওয়াক্তে ফরজ, নফল সব নামায আদায় করতে পারবে।
রোজা, কুরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদত বৈধ।ওয়াক্ত শেষ হলে উযু ভেঙে যাবে।
ফাতাওয়া শামী (১/৩০৫): মাজুরের উযু ওয়াক্তের সাথে সম্পর্কিত; ওয়াক্ত শেষ হলে উযুও শেষ হয়।
রক্ত বন্ধ হলে করণীয়
যদি এমন সময়ের জন্য রক্ত বন্ধ হয় যাতে পবিত্র হয়ে ফরজ নামায আদায় করা সম্ভব, তাহলে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করে নামায আদায় করতে হবে।
স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের বিধান
ইস্তিহাযা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর সহবাস বৈধ।
উপসংহার
ইস্তিহাযা কোনো অপবিত্রতার কারণ নয়; বরং এটি অসুস্থতাজনিত রক্ত।
তাই এ অবস্থায় নারীকে নামায-রোজা ও অন্যান্য ইবাদত থেকে বিরত থাকতে হবে না।
সঠিক মাসায়েল জানা থাকলে দ্বীনি জীবন সহজ ও সুসংহত হয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে দ্বীনের মাসায়েল বুঝে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আরো বিস্তারিত ও সহজে উপলোব্ধ করতে নিকটস্থ বিজ্ঞ মুফতী সাহেবের শরনাপন্ন হতে পারেন।
কনসালটেন্ট 📿 মাওঃ আব্দুল্লাহ আফজাল।
শিক্ষকঃ ঝেরঝেরীপাড়া টাইটেল মাদ্রাসা, কুমার পাড়া সিলেট
MuslimBD24.Com Islamic blog site Bangladesh

