মুসলিমবিডি২৪ডটকম

(বিয়ের ইস্তেখারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ পদ্ধতি)
ইস্তেখারা কী?
ইস্তেখারা অর্থ—আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া।
বিয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি, তাই সিদ্ধান্তের আগে ইস্তেখারা করা সুন্নত।
হাদিসে বর্ণিত আছে:
রাসূল ﷺ আমাদের ইস্তেখারা এমনভাবে শিখিয়েছেন, যেমন কুরআনের সূরা শিখিয়েছেন। সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৬৬
ইস্তেখারা করার আগে যা জানা জরুরি
- ইস্তেখারা শুধু হালাল বিষয়ে ছেলে ও মেয়ে—দুজনেই করতে পারে
- স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়
- একাধিকবার করা জায়েজ
ধাপে ধাপে ইস্তেখারার নিয়ম
ধাপ–১: নিয়ত (মনে মনে)
ওযু করার আগে বা নামাজে দাঁড়ানোর সময় মনে মনে বলবেন—
আরো পড়ুন বিয়ের জন্য মেয়ে নির্বাচন: শান্তিপূর্ণ দাম্পত্য জীবনের চাবিকাঠি
ছেলে হলে:
“হে আল্লাহ, আমি অমুক মেয়েকে (নাম জানলে নাম) বিয়ে করা আমার জন্য কল্যাণকর কিনা—এ বিষয়ে আপনার নিকট ইস্তেখারা করছি।”
মেয়ে হলে:
“হে আল্লাহ, আমি অমুক ছেলেকে বিয়ে করা আমার জন্য কল্যাণকর কিনা—এ বিষয়ে আপনার নিকট ইস্তেখারা করছি।”
ধাপ–২: ওযু
নামাজের মতো সুন্দরভাবে পূর্ণ ওযু করবেন।
ধাপ–৩: নামাজ
২ রাকাআত নফল নামাজ ফরজ নামাজ ছাড়া যেকোনো হালাল সময়।
আরো পড়ুন সন্তানকে সময় মত বিয়ে- অভিভাবকের প্রতি আবেদন
নামাজের সূরা (ইচ্ছা হলে): ১ম রাকাআত: সূরা ফাতিহা + সূরা কাফিরুন ২য় রাকাআত: সূরা ফাতিহা + সূরা ইখলাস
(অন্য সূরাও পড়া যাবে)
ধাপ–৪: ইস্তেখারার দোয়া
নামাজ শেষ করে (সালাম ফিরানোর পর) নিচের দোয়াটি পড়বেন।
আরবি দোয়া (পূর্ণ)
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ (فِي زَوَاجِي مِنْ فُلَان/فُلَانَة) خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ۔
ফুলান/ফুলানাহ এর জায়গায় পাত্র বা পাত্রীর নাম মনে মনে বলবেন।
দোয়ার অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন
বাংলা অর্থ (সহজ ভাষায়)
হে আল্লাহ!
আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আমি কল্যাণ চাই, আপনার ক্ষমতার মাধ্যমে শক্তি চাই।
যদি এই বিয়ে আমার দ্বীন, দুনিয়া ও ভবিষ্যতের জন্য কল্যাণকর হয়—
তবে তা সহজ করে দিন এবং বরকত দিন। আর যদি অকল্যাণকর হয়—
তবে আমাকে তা থেকে ফিরিয়ে দিন এবং যেখানে কল্যাণ আছে সেখানে আমাকে সন্তুষ্ট করে দিন।
ধাপ–৫: ইস্তেখারার পর করণীয়।
আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখুন। মনে স্বস্তি বা অস্বস্তি খেয়াল করুন।
পরিস্থিতি সহজ না কঠিন হচ্ছে দেখুন।অভিজ্ঞ ও দ্বীনদার মানুষের পরামর্শ নিন।শুধু স্বপ্নের উপর নির্ভর করবেন না।
কয়বার ইস্তেখারা করবেন?
১ বার করলেও যথেষ্ট না বুঝলে ৩ / ৫ / ৭ দিন পর্যন্ত করা যাবে

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
অন্যকে দিয়ে ইস্তেখারা করানো জরুরি নয়। গুনাহের বিষয়ে ইস্তেখারা নেই।জোর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
শেষ কথা
যে ব্যক্তি ইস্তেখারা করে—সে কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না,কারণ সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে তুলে দেয়
MuslimBD24.Com Islamic blog site Bangladesh

