Breaking News
Home / ইলমুল ক্বিরাত / ওয়াকফ অর্থ কি তা কত প্রকার এর বিস্তারিত আলোচনা

ওয়াকফ অর্থ কি তা কত প্রকার এর বিস্তারিত আলোচনা

(মুসলিমবিডি২৪ ডটকম)

ওয়াকফ অর্থ কি তা কত প্রকার এর বিস্তারিত আলোচনা

ওয়াকফ অর্থ কোনো শব্দের শেষের অক্ষর কে সাকিন করে থামা আর  দুই যবরযুক্ত শেষ অক্ষর  হলে এক যবর করে এক আলিফ লম্বা করে থামা।

তা অনেক প্রকার প্রসিদ্ধ কয়েকটি হচ্ছে এই-

(১) ওয়াকফে লাযেম: তা ওই স্থানে হয় যেখানে থামা আবশ্যক। না থামলে অনেক সময় অর্থ বিনষ্ট হওয়ার আশংকা হয়।

তার চিহ্ন হলো  م এর উপর থেমে পর থেকে শুরু করবে এবং পূনরাবৃত্তি করবে না।

(২) ওয়াকফে মুত্বলাক: এখানে থামা উচিৎ। তার চিহ্ন ط এর উপরও থেমে পর থেকে শুরু করবে এবং পূনরাবৃত্তি করবে না।

(৩) ওয়াকফে জায়িয: এখানে থামা না থামা উভয়টি জায়িয। তার চিহ্ন ج এর উপর থেমে গেলে পর থেকে শুরু করবে।

(৪) ওয়াকফে মুজাওয়ায: এখানে থামা তো জায়িয কিন্তু না থামা উত্তম। তার চিহ্ন ز এই চিহ্ন যদি আয়াতের মধ্যখানে হয়।

তবে এর উপর থামলে পূনরাবৃত্তি করা জরুরি। আর তা আয়াতের উপরে হলে এর উপর থামলে পূনরাবৃত্তি করবে না।

(৫) ওয়াকফে মুরাখখাস: তার চিহ্ন হলো ص আর এটা ওয়াকফে মুজাওয়াযের মতো।

প্রশ্ন: ز – ج – ط – م এবং ص ছাড়াও মাজীদে আরো কয়েকটি চিহ্ন দেখা যায়। এগুলির মাঝে কি করতে হয়?

উত্তর: (১) قِ – قف এ দুটির মাঝে থামা উচিৎ।

(২) وقفة – سكته এগুলোতে শ্বাস না ছেড়ে একটু থেমে সামনের দিকে পড়া উচিৎ।

(৩) তিনটি তিনটি করে পাশাপাশি দুইটি চিহ্ন থাকে যেগুলিকে “মুআনাকা” বলা হয় এই দুটি থেকে কোনো একটির উপর থামা উচিৎ।

প্রথমটিতে থামা যায়, দ্বিতীয়টিতেও থামা যায়, তবে একসাথে উভয়টিতে থামা যাবে না।

(৪) لا, যেখানে لا লিখিত আছে সেখানে থামবে না, থেমে গেলে পূনরাবৃত্তি করতে হবে।

(৫) এসব চিহ্ন ছাড়া অন্যান্য চিহ্নগুলো যেখানে লাগানো হয়েছে صل – صلي ইত্যাদি।  সেগুলোতে ইচ্ছা করলে থামতে পারবে, নাও থামতে পারবে।

আর যেখানে উপরে নিচে দুটি চিহ্ন লিখিত থাকবে, সেখানে যেটি উপরে লিখিত সেটির উপর আমল করবে।

প্রশ্ন: কোরআন মাজীদে সাকতা কতটি? এগুলোতে কি করতে হয়?

উত্তর: কোরআন মাজীদে সাকতা চারটি:

(১) সূরা কাহফের শুরুতে -قيما সাকতা عوجاً

(২) সূরা ইয়াসিনে – هذا সাকতা من مر قدنا

(৩) সূরা ক্বিয়ামায় -راق সাকতা مَنْ

(৪) সূরা মুতাফফিফীনে-ران সাকতা كلا بَلْ

এই চার স্থানে শ্বাস ছাড়বে না; বরং একটু থেমে সামনের দিকে পড়তে থাকবে।

প্রশ্ন: ওয়াকফ কোথায় করতে হয়?

উত্তর: যে ব্যক্তি কোরআন শরীফের অর্থ জানে না সে যেন এমন সকল স্থানে ওয়াকফ করে যে সব স্থানে আলামত (চিহ্ন) লাগানো রয়েছে।

এ চিহ্ন সমূহ থেকে যার যে হুকুম রয়েছে, সে অনুযায়ী আমল করবে। প্রয়োজন ছাড়া এবং অস্থানে (স্থান ছাড়া) ওয়াকফ করবে না।

তবে আয়াতের মধ্যখানে শ্বাস শেষ হয়ে গেলে তা অপারগতা। অপারগতায় এমন হয়ে গেলে উচিৎ হলো,

যে শব্দে থেমেছে ওই শব্দ থেকে বা তার আগ থেকে পূনরাবৃত্তি করে পরের শব্দের সাথে মিলিয়ে পড়া উচিৎ।

এমন অপারগতার সময় খেয়াল রাখবে সে কোনো শব্দের মধ্যখানে যেন ওয়াকফ না হয়। বরং শব্দের শেষে যেন থামা হয়।

প্রশ্ন: হারাকাতযুক্ত হরফের উপর কিভাবে ওয়াক্বফ করা উচিত?

উত্তর: হারাকাতযুক্ত হরফে ওয়াকফ করার সময় তাকে সাকিন করতে হবে। কারণ হারাকাতের উপর ওয়াকফ করা ভুল।

যেমন- اياك نَعْبُدُ এর মাঝে যদি ওয়াকফ করার প্রয়োজন হয় তবে د কে সাকিন করতে হবে। د এর পেশ উচ্চারণ করে ওয়াকফ করবে না।

প্রশ্ন: শ্বাস না ছেড়ে শব্দের শেষে শুধু সাকিন করলেই কি ওয়াকফ হয়ে যায় এবং এরকম করা কি?

উত্তর: শ্বাস না ছেড়ে শব্দের শেষে শুধু সাকিন করলেই ওয়াকফ হয় না।

যেমন- اياك نستعينُ এর উপর ওয়াকফের সময় নুনকে সাকিন করে শ্বাস না ছেড়ে اهدنا الصراط المستقيم পড়া শুরু করে দিলে ওয়াকফ হয় না।

এরকম করা ভুল। এথেকে বেচে থাকা উচিৎ।

প্রশ্ন: যে শব্দের উপর ওয়াকফ করা হবে তার শেষে যদি যবরের তানভীন হয়। বা গোল তা (ة) হয়, তবে ?

উত্তর: যদি যবরের তানভীন হয় তবে ওয়াকফের অবস্থায় ওই তানভীনের জায়গায় আলিফে মাদ্দাহ পড়তে হয়।

যেমন- افوجاً এর উপর ওয়াকফ করলে افوجاَ পড়তে হবে। আর فان كن نساءً এর উপর ওয়াকফ করলে نساءَا পড়তে হবে।

যে শব্দের শেষে গোল তা হবে, ওয়াকফের সময় তাকে “হা” সাকিন পড়তে হবে। যেমন- اقيمو الصلوةَ কে ওয়াকফের সময় اقيمو الصلوةْ পড়তে হবে।

প্রশ্ন: কোরআন মাজীদের কোনো কোনো শব্দের শেষে যে আলিফ লিখিত রয়েছে। এ সকল আলিফকে কি পড়তে হয়?

উত্তর: কোরআনের শব্দ সমূহের শেষে লিখিত আলিফকে অধিকাংশ শব্দে পড়তে হয়।

কিন্তু কয়েকটি শব্দ এমন আছে যে, এগুলোর আলিফ মিলিয়ে পড়াবস্থায় পড়তে হয় না। শুধু ওয়াকফের অবস্থায় পড়তে হয়।

যেমন- الظنونا এবং انا এর মাঝে। আর কোনো কোনো শব্দ এমনও রয়েছে যে, এগুলোর আলিফ কোনো অবস্থায়ও পড়া হয় না।

যেমন- لَاْ الي الجحيم- لَاْ الي الله – لَاْ اذبحنه অধিকাংশ কোরআন মাজীদে এ জাতীয় আলিফের উপর গোল চিহ্ন দেয়া হয়েছে।

তিলাওয়াতের সময় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরী।

(সূত্র: আসবাকে তাজবীদ- ২৬,২৭,২৮,২৯,৩০)

About Admin

আমার নাম: এইচ.এম.জামাদিউল ইসলাম ঠিকানা: বালাগঞ্জ,সিলেট। আমি কওমি মাদ্রাসায় কোরাআনের খেদমত করতেছি, পাশাপাশি MuslimBD24.Com সাইটের প্রধান লেখক ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। অনলাইন সম্পর্কে মোটামুটি জ্ঞান থাকায়, তাই সময় পেলে দ্বীন ইসলাম প্রচারের সার্থে ইসলামিক কিছু পোস্ট লেখালেখি করি। যাতে করে অনলাইনেও ইসলামিক জ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞানহীন মানুষ, ইসলামিক জ্ঞান সহজে অর্জন করতে পারে। একজন মানুষ জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নিজের জীবনকে ইসলামের পথে চালাতে গেলে ইসলাম সম্পর্কে যে জ্ঞান অর্জন করার দরকার,ইনশা-আল্লাহ এই ওয়েব সাইটে মোটামুটি সেই জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। যদি সব সময় সাইটের সাথে থাকে। আর এই সাইটটি হল একটি ইসলামিক ওয়েব সাইট । এ সাইটে শুধু ইসলামিক পোস্ট লেখালেখি হবে। আল্লাহ তায়ালার কাছে এই কামনা করি যে, আমরা সবাইকে বেশী বেশী করে ইসলামিক জ্ঞান শিখার ও শিখানোর তাওফিক দান করুন, আমিন।

Check Also

মদ কাকে বলে ও মদের বিস্তারিত আলোচনা

মদ কাকে বলে ও মদের বিস্তারিত আলোচনা

(মুসলিমবিডি২৪ ডটকম) প্রশ্ন:- মদ অর্থ কি ? উত্তর:- মদ অর্থ আওয়াজ কে টানিয়া পড়া। প্রশ্ন:- …

4 comments

  1. শাহনেওয়াহ

    assalamu aalaikum- ১০টি বিদআত ও ১০টি শির্ক আমল জানতে চাই

    • ওয়ালাইকুম সালাম।ইনশাআল্লাহ, জনাব কিছু দিনের ভিতরই এই সম্পর্কে পোস্ট করা হবে। সাইটের সাথে থাকুন।

  2. আসসালমুয়ালাইকুম। ভাই আমি নিজে নিজে কুরআন পড়া শিখতিছি কিন্তু ওয়াকফ মানে বুঝতাম না। আপনার লেখা থেকে বুঝতে পারলাম কোন কোন সময় ওয়াকফ করতে হবে। যদি দয়াকরে ওয়াকফ লাজেম কোন কোন ছুরা বা কোন আয়াতে আছে বা যদি পারেন স্ক্রিনশট নিয়ে দেখাতেন তাহলে আমার খুব উপকার হতো। আল্লাহ আপনার ভাল করুক। জাযাকাল্লাহ

    • ওয়ালাইকুমুস সালাম।
      আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আয়াত নাম্বার এর উপরে এবং আয়াতের মধ্যখানে দেখতে পাবেন ওয়াকফের চিন্থ হিসাবে ছোট মীম আছে ঐখানে ওয়াকফ করতে হবে। উহাকে ওয়াকফে লাযেম বলে। না থামলে অর্থ পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com