Home / জরুরী মাসাইল / প্রচলিত মিলাদ মাহফিলে কিয়াম করার শরয়ী হুকুম

প্রচলিত মিলাদ মাহফিলে কিয়াম করার শরয়ী হুকুম

(মুসলিমবিডি২৪ডটকম) প্রচলিত মিলাদ মাহফিলে কিয়াম করার শরয়ী হুকুম

প্রচলিত মিলাদ মাহফিল

প্রশ্নঃ যেখানে মিলাদ বা সম্মিলিতভাবে দুরূদ শরীফ পড়া হয় সেখানে হুজুর সাঃ এসে হাজির হন,

তাই ইয়া নবী সালামু আলাইকা পড়ার সময় তাঁর সম্মানে দাড়ানো জরুরি, না দাড়ালে বেয়াদবী হয়।

যারা দাড়ায় না তারা নবী সাঃ কে অসম্মান করে। এমন আকিদা পোষণ করার হুকুম কি?

মীলাদ মাহফিলে রাসুল সাঃ হাজির হন না

উত্তরঃ কোরআন-হাদীসের ভাষ্যমতে মীলাদ বা দুরূদ পড়ার স্থানে রাসুলুল্লাহ সাঃ হাজির হন না।

তাই ইয়া নবী সালামু আলাইকা পড়ার সময় দাড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়,

এবং না দাড়ালে বেয়াদবী হয় না। বরং রাসুল সাঃ এর আদর্শের প্রতি সম্মান দেখানো হয়।

কেননা রাসুল সাঃ এর আলোচনা পূণ্যের কাজ এবং তার প্রতি মহব্বতের দাবী ও বটে। কিন্তু প্রচলিত মিলাদ মাহফিল কোরআন হাদিসের পরিপন্থী।

রাসুল সাঃ এর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের ভালোবাসা

সাহাবায়ে কেরামের চেয়ে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অধিক মহব্বত প্রকাশকারী দুনিয়াতে আর কেউ হবেনা।

কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন কেউ প্রচলিত মিলাদ ও কিয়াম দ্বারা

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা প্রকাশ করেননি। বরং তাঁর সমূহ নিজেদের মধ্যে বাস্তবায়ন করে তাদের মুহাব্বত প্রকাশ করেছেন।

মীলাদ মাহফিলে রাসুল সাঃ হাজির না হওয়ার দলিল

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত হন না। যেমন রাসূল সাঃ বলেন,

হযরত আম্মার রাযিঃ থেকে বর্ণিত, সাল্লাহু সাল্লাম ইরশাদ করেন,

আল্লাহ তায়ালা আমার রওজার জন্য ফেরেশতা নিযুক্ত করেছেন। তাকে সমস্ত সৃষ্টিকুলের কথা শোনার শক্তি দান করেছেন।

কেয়ামত পর্যন্ত যে কেউ আমার উপর দরুদ পাঠ করবে ফেরেশতা তার নাম ও তার পিতার নাম সহ

আমার নিকট পৌঁছিয়ে দিবে যে,অমুকের অমুক আপনার প্রতি দরূদ পাঠ করেছে। (বায়হাকী)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

পৃথিবীতে বিচরণকারী আল্লাহ তাআলার অগণিত ফেরেশতা রয়েছে যারা আমার নিকট আমার উম্মতের সালাম পৌছানোর কাজে নিয়োজিত।

সাল্লাল্লাহু সাল্লাম যদি মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত হন তাহলে উম্মতের দরূদ পৌছানোর জন্য অসংখ্য ফেরেশতা নিয়োজিত থাকা অহেতুক বলে গণ্য হবে।

তাছাড়া সাঃ জীবদ্দশায় স্বশরীরে তাশরীফ আনলে তাঁর সম্মানে সাহাবীগণ দাড়াতেন না। কেননা রাসুল সাঃ তা পছন্দ করতেন না।

হযরত মুয়াবিয়া হতে বর্ণিত তিনি বলেন, সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন,

কারো সম্মানে মানুষ দাঁড়ালে সে যদি খুশি হয় তাহলে সে যেন জাহান্নামকে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।

প্রচলিত মীলাদ মাহফিলে রাসুল সাঃ হাজির হওয়ার আক্বীদা পোষণ করা কোরআন সুন্নাহ পরিপন্থী।

রাসুল সাঃ মিলাদ মাহফিলে তাশরীফ আনলে কার সাধ্য আছে না দাড়াবার! রাসুল সাঃ এর আলোচনায় দাঁড়ানোর বিধান থাকলে

নামাজের আত্তাহিয়্যাতুর মধ্যেও দাঁড়াবার কথা আসত। আর হাদিস পড়াবার সময় তো শুধু দাঁড়িয়েই থাকতে হত।

কেননা হাদিসের দরসে রাসুল সাঃ এর আলোচনা খুব হয়ে থাকে।

অতএব রাসুল সাঃ মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত হওয়ার আকীদা পোষণ করা কুরআন সুন্নাহ পরিপন্থী।

About Hafij Khijir

আমার নাম হাফিজ খিজির আহমদ। ঠিকানা. সিলেট, বাংলাদেশ। আমি কওমি মাদ্রাসার অধ্যায়নরত একজন ছাত্র। আমার ধর্ম ইসলাম । আর আমি এই ইসলাম সম্পর্কে জানতে শিখতে ও শিখাতে ভালোবাসি। আমি যা জানি তা জানাই, এবং যা জানিনা তা জানার চেষ্টা করি ও করতেছি।উদ্দেশ্য একটাই আল্লাহ এবং আল্লাহ তাআলার রাসুলের সন্তুষ্টি অর্জন ।

Check Also

যে সব কারণে রোযা রাখার পর তা ভেঙ্গে ফেলা জায়েয

যেসব কারণে রোযা রাখার পর তা ভেঙ্গে ফেলা জায়েয

(মুসলিমবিডি২৪ডটকম) (১) যদি এমন পিপাসা বা ক্ষুধা লাগে যাতে প্রাণের আশঙ্কা দেখা দেয়। উল্লেখ্য কেউ …

Powered by

Hosted By ShareWebHost