Breaking News
Home / হজ্ব / যমযমের ফযীলত

যমযমের ফযীলত

(মুসলিমবিডি২৪ডটকম) যমযমের ফযীলত

যমযমের ফযীলত

জনৈক কবি বলেন, ‘যমযম’ কী? যমযম তো শিশু ইসমাইল আঃ এর পিপাসা এবং মা হাজেরা আঃ এর ব্যাকুলতা ও অস্থিরতার ফল।

হযরত ইবরাহিম আঃ যখন শিশুপুত্র হযরত ইসমাইল এবং স্ত্রী হাজেরা আঃ মক্কার নির্জন উপত্যকায় রেখে যান

তখন হাজেরা আঃ অস্থির হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আমাদেরকে এ নির্জন ভূমিতে কোথায় রেখে যাচ্ছেন?

হযরত ইবরাহীম আঃ কোন জবাব দিলেন না। তখন হাজেরা আঃ জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি আল্লাহর আদেশে আমাদের রেখে যাচ্ছেন?

হযরত ইবরাহিম আঃ ইশারা করে জানালেন, হ্যাঁ। ব্যস, হযরত হাজেরা আঃ প্রশান্ত চিত্তে বললেন, তাহলে তো কিছুতেই তিনি আমাদের নষ্ট করবেন না।

কয়েকদিনের মধ্যে সঙ্গে থাকা খাদ্য ও পানি ফুরিয়ে গেলো। আর শিশুপুত্র ইসমাইল আঃ পিপাসায় ছটফট করতে লাগলেন।

মমতাময়ী মায়ের অন্তরে তখন কি অবস্থা হতে পারে? তিনি ব্যাকুল হয়ে সাফা পাহাড়ে ছুটে গেলেন এবং চূড়ায় আরোহণ করে চারদি তাকালেন,

যদি দূরে কোন পানির আভাস, অথবা কাফেলার চিহ্ন দেখা যায়! আবার ছুটে গেলেন মারওয়া পাহাড়ে,

কিন্তু কোথাও না আছে পানি, না কোন কাফেলা। দুই পাহাড়ের মধ্যে ছোটাছুটির সময় মমতাময়ী মা বারবার ফিরে ফিরে দেখতেন,

তাঁর কলিজার টুকরা ইসমাইল নিরাপদ আছে কি না! সাফা পাহাড় থে নামার পর একটি স্হান ছিলো বেশ ঢালু।

সেখান থে হযরত ইসমাইল আঃ কে দেখা যায় না। তাই ঐ স্থানটি তিনি দৌড়ে পার হতেন। তিনি তো সাধারণ কোন নারী নন!

আল্লাহর খলীল যিনি, তিনি তার স্ত্রী এবং আগামী দিনে যিনি হবেন আল্লাহর নবী ও যবীহুল্লাহ, তিনি তাঁর মা।

সুতরাং আল্লাহর উপর তার বিশ্বাস ও আস্থা ছিলো অটুট যে, অবশ্যই তিনি বিপদে সাহায্য করবেন। তবু তিনি এক মা, মমতাময়ী মা!

তাই আস্থা ও বিশ্বাস ধারণ করেও তিনি অস্থির ও ব্যাকুল। এ অস্থিরতা ও ব্যাকুলতা সংশয় সন্দেহের নয়, এটা প্রতীক্ষার অস্থিরতা ও ব্যাকুলতা যে,

কখন কোনদিক থেকে আসবে! তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ভরসা ও তাওয়াক্কুলের অর্থ নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকা নয়,

বরং ভরসার সঙ্গে সঙ্গে নিজের সাধ্যের ভিতরে চেষ্টা করাও কর্তব্য। যথাসময়ে অকল্পনীয় ভাবেই নেমে এলো।

বর্ণিত আছে, হযরত জীবরাঈল আঃ হযরত ইসমাইল আঃ এর পায়ের কাছে ডানা দ্বারা আঘাত করেন,

আর যমযমের ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয় এবং চারদিক ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়।

হযরত হাজেরা আঃ দূর থেকে এ দৃশ্য অবলোকন করে ছুটে আসেন এবং ঝর্ণার চারদিকে পার বেঁধে দেন।

তিনি আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করেন এবং শিশু ইসমাইল কে যমযম পান করান, নিজেও পান করেন।

আমাদের প্রিয় নবী সাঃ যমযম পান করেছেন। যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর কোটি মুসলমান যমযম পান করছে তবুও যমযম ফুরায়নি,

এমনকি একটুও কমেনি। কেয়ামত পর্যন্ত একই ধারায় তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

যমযমের বৈশিষ্ট্য

যমযমের মধ্যে রয়েছে শিফা, ছওয়াব ও বরকত, যা শুধু যমযমেরই বৈশিষ্ট্য।

হযরত জাবির রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাঃ কে আমি বলতে শুনেছি, যমযমের পানি যে নিয়তে পান করা হবে, তা অর্জিত হবে। ( ইবনে মাজাহ, ৩০৬২)

যমযম দ্বারা শিফা হাসিল হওয়ার অসংখ্য ঘটনা বর্ণিত রয়েছে। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে,

হজ্বের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি পরিমাণে যমযম পান করেছেন, আর বলেছেন,

আমাদের ও মোনাফেকদের মধ্যে পার্থক্য এই যে, আমরা যমযম উদর পূর্ণ করে পান করি, কিন্তু তারা তা পারে না।

যমযমের আরেকটি বড় ফযীলত হলো, মেরাজ গমনের পূর্বে জীবরাঈল আঃ জান্নাত থেকে নিয়ে আসা পাত্রে রাসুল সাঃ এরপবিত্র কলব রেখে

তা যমযম পানি দ্বারা ধৌত করেছিলেন। হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ সম্পর্কে বর্ণিত, যমযম পান সময় তিনি এই দোয়া পড়তেন,

اللهم اني اسألك علما نافعا ورزقا واسعا وشفاء من كل داء.

হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে উপকারী ইলম এবং প্রশস্ত এবং সর্বপ্রকার রোগ হতে শিফা প্রার্থনা করছি। (মুস্তাদরাকে হাকীম, ১৭৩৯)

আরো পড়ুন 👇👇👇

কুরবানী কার উপর ওয়াজিব ও কুরবানী করার ফজিলত, যিলহজ্বের প্রথম দশদিনের আমল আল্লাহর পছন্দ, শবে কদর হাজার মাসের শ্রেষ্ঠ এক রাত

About Hafij Khijir

আমার নাম হাফিজ খিজির আহমদ। ঠিকানা. সিলেট, বাংলাদেশ। আমি কওমি মাদ্রাসার অধ্যায়নরত একজন ছাত্র। আমার ধর্ম ইসলাম । আর আমি এই ইসলাম সম্পর্কে জানতে শিখতে ও শিখাতে ভালোবাসি। আমি যা জানি তা জানাই, এবং যা জানিনা তা জানার চেষ্টা করি ও করতেছি।উদ্দেশ্য একটাই আল্লাহ এবং আল্লাহ তাআলার রাসুলের সন্তুষ্টি অর্জন ।

Check Also

পবিত্র কাবা ঘরের ভিতরে কি আছে

মুসলিমবিডি২৪ ডট কম পবিত্র কাবাঘরের ভিতরে কি আছে? প্রায়ই আমাদের মনে এ প্রশ্ন জাগে। এ …

Powered by

Hosted By ShareWebHost