Breaking News
Home / ইসলাম ধর্ম / Late marriage বা বিলম্বে বিবাহ

Late marriage বা বিলম্বে বিবাহ

(মুসলিমবিডি২৪ডটকম)

Late marriage

অনৈসলামি কারণে সন্তানদেরকে বিয়ে না দেওয়ায় বা বিয়ে বিলম্ব করায় সন্তানরা যদি যৌবনের তাড়নায় কোনো গুনাহয় লিপ্ত হয়,

 

(এমনকি মনে মনে জিনা করাটাও একটা গুনাহ,) তবে এর সম্পূর্ণ দায়ভার -মাকেও বহন করতে হবে!

 

ের যে কত ক্ষতি, সেটা বলাই বাহুল্য

 

বিয়ে কঠিন হওয়ায় স্মার্টফোন ও ফ্রি-মিক্সিং-এর এ যুগে টিনএজড ছেলে-মেয়েদের মধ্যে কিশর অপরাধ বেড়েই চলেছে।

 

তরুণ-তরুণীদের মধ্য থেকে শালীনতা ও লজ্জাবোধ উঠে যাচ্ছে।

 

তাদের মধ্যে অশ্লীলতা, অস্থিরতা, অবক্ষয়, নৈতিক অবনতি, অপরাধবোধ, হীনমন্যতা, হতাশা, মানসিক অশান্তি, মা-বাবার অবাধ্যতা,

 

বিভিন্ন গোপন পাপ, হস্তমৈথুন, পর্ণোগ্রাফিক এডিকশন,

 

নন-মাহরামদের সাথে চিট চ্যাট, সেক্স চ্যাট, জিনা, ধর্ষণ, গর্ভপাত সহ বিভিন্ন ফিতনা-ফ্যাসাদ ব্যপক বৃদ্ধি পেয়েছে,

 

যা আজ open secret! যুবকদের একটা বড় অংশ সাইকো হয়ে যাচ্ছে দিন দিন! এসব কিছুর জন্য দায়ী কারা?

 

মূলত এসবের জন্য দায়ী এ অভিশপ্ত সেক্যুলার সমাজ ব্যবস্থার অধীনে বসবাসকারী বাস্তবতা সম্পর্কে অচেতন বাবা-মায়েরা

 

যারা আল্লাহর অবাধ্য হয়ে পড়ালেখা ও প্রতিষ্ঠার নামে বিয়ের মতো একটি অতি-গুরুত্বপূর্ণ (ক্ষেত্র বিশেষে ফরজ) ইবাদত থেকে

 

নিজ ছেলে-মেয়েদেরকে বঞ্চিত করছেন ও তাদের যৌবনের পবিত্রতা কুরবানী দিচ্ছেন!

 

তারা ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের কনসেপ্টটাই বোঝেন নাই!

 

আল্লাহ এসব বাবা-মায়েদেরকে হেদায়ত দান করুক ও তাদের সন্তানদেরকে ফিতনা থেকে করুক!

 

আপনি তো মুসলিম, মা শা আল্লাহ। আপনি কি জানেন, আপনার বালেগ হওয়ার পর ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা থাকলে,

 

আপনার জন্য ফরজ আপনার সন্তানকে ইসলামিক ওয়েতে সাহায্য করা এবং যত দ্রুত সম্ভব তার বিয়ের সুব্যবস্থা করা?

 

ইসলামিকলি, *সন্তান জন্মের পর এটা বাবা-মায়ের ফরজ দায়িত্ব যে, তারা সন্তানের ভরণপোষণ করাবেন,

 

সঠিক দীনি শিক্ষা ও পরিবেশ নিশ্চিত করবেন এবং সন্তান বালেগ হলে

 

বা বায়োলজিকালি বিবাহযোগ্য হলে ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা থাকলে ফিতনা থেকে বাঁচাতে

 

দ্রুত বিয়ে করিয়ে দেবেনসহিহ আকিদার দীনদার পাত্র/পাত্রীর সাথে।

 

আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি, এটা বাবা-মায়ের দায়িত্ব, দয়া না!

 

এছাড়াও বিয়ের জন্য আগের থেকেই সন্তানদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা ও উৎসাহ দেওয়া উচিত।

 

যেন সন্তানদের বিয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তারা নিঃসঙ্কোচে তা বাবা-মাকে শেয়ার করতে পারে

 

এবং ফিতনার যেন কোনো সুযোগই না থাকে। কারণ, prevention is better than cure!দুর্ভাগ্যবশত,

 

অনেক মুসলিম বাবা-মায়েরা বাবা-মা হয়েছেন নেহাত প্রাকৃতিক প্রয়োজনে।

 

তাদের কী দায়িত্ব-কর্তব্য মুসলিম হিসেবে, তারা জানেনই না! মানে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, খাওয়াচ্ছেন, পরাচ্ছেন, আর আপনার দায়িত্ব শেষ!

 

সন্তানরা ঠিকভাবে ইসলাম পালন করছে কি করছে না, হালাল-হারাম মেনে চলছে কি চলছে না, এগুলো কে খেয়াল করবে?

 

তাহলে পশু-পাখি আর আপনার জীবনধারার মধ্যে পার্থক্য কী হলো?

 

এসব বাবা-মায়েদের ইসলামের দৃষ্টিতে বাবা-মা হওয়ার যোগ্যতা আছে কিনা, সেটিই এখন প্রশ্নবিদ্ধ!

 

আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে মিলন করেছেন, আপনার আপনার সন্তান ধারণ করেছেন ও জন্ম দিয়েছেন;

 

এখন এই সন্তানকে ভালো মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব কার?

 

আপনার সন্তানের নৈতিক মূল্যবোধ গঠন ও তা রক্ষার দায়িত্ব কার??

 

আপনার সন্তানকে ফিতনা থেকে বাঁচাতে তাকে সময়মত বিয়ে করতে সাহায্য করার দায়িত্ব কার???

 

আপনি নিজেও দীন থেকে বিমুখ হয়ে আছেন আর সন্তানদেরকেও সেভাবে বড় করছেন!

 

আপনি পৃথিবীতে ঘুরতে বা চিরকাল থাকতে আসেননি।

 

আপনি যে পৃথিবীতে পরীক্ষা দিতে এসেছেন এবং আপনাকে যে প্রত্যেকটা ব্যপারেই জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে খুব শীঘ্রই,

 

এ চিন্তা আপনার মাথায় কবে আসবে?

 

মৃত্যুর আগ মুহূর্তে?

 

সময় থাকতে সচেতন হোন। আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার পূর্বেই তার দিকে ফিরে আসুন!

 

আসুন দেখে নেই কোরআন ও হাদিস এ ব্যপারে কি বলে

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন হতে বাঁচাও,

যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; যেখানে রয়েছে নির্মম ও কঠোর ফেরেশতাগণ।

 

আল্লাহ তাদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা সে ব্যপারে তাঁর অবাধ্য হয় না। আর তারা তা-ই করে যা তাদেরকে আদেশ করা হয়।” [Quran 66:6]

 

“তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং তোমারা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।” [Bukhari 5200]

 

 

“তোমরা তোমাদের মধ্যে অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস-দাসীদের দাও।

 

তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।”* [Quran 24:32]

 

 

“শয়তান তোমাদেরকে অভাবের ভয় দেখায় ও অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়।

 

আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।” [Quran 2:268]

 

 

“আর যমীনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহরই।” [Quran 11:6]

 

 

বি.দ্র. আল্লাহকে আর-রাজ্জাক বা একমাত্র রিজিকদাতা হিসেবে মেনে নেওয়া তাঁকে সৃষ্টিকর্তা,

 

পালনকর্তা ও রব হিসেবে মেনে নেওয়ার মতোই, যা তাওহিদে রুবুবিয়ার অংশ।

আরো পড়ুন 👉সন্তানের বিবাহে অভিভাবকের অবহেলা, বিবাহ ও দাম্পত্য জীবন, যে কারণে মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছেলেকে বিয়ে করা উচিৎ

About নঙ্গে আসলাফ আফজাল

নঙ্গে আসলাফ আফজাল ১৯৯৫ সালের ১৪ ই এপ্রিল মাসে জন্মগ্রহণ করেন।২০১২ সনে হিফজ সম্পন্ন করেন মাদ্রাসা দাওয়াতুল হক দেওনা,গাজীপুর, ঢাকা । উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন২০১৬ সনে ইসলামাবাদ মাদ্রাসা বি-বাড়িয়া । দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স)সম্পন্ন করেন ২০২০ সনে শাহ সুলতান রহঃ মাদ্রাসা সিলেট । ইসলাম সম্পর্কে জানতে ও জানাতে পছন্দ করেন তাই; Muslimbd24.com এ তার দৈনিক ইসলামী নিউজ সহ বিভিন্ন লিখা প্রকাশিত হয়। ঠিকানা: বালাগঞ্জ, সিলেট। মোবাইল নাম্বার:০১৭১৪৪৭৫৭৪৫ ইমেইল: hafijafjal601@gmail.com

Check Also

সন্তানের প্রতি আদর্শ বাবার উপদেশ

সন্তানের প্রতি আদর্শ বাবার উপদেশ

(মুসলিমবিডি২৪ডটকম) হযরত লোকমান হাকিম আলাইহিস সালাম আদর্শ বাবার ভূমিকা নিয়ে,   তার ছেলেকে আদর্শবান ও …

Powered by

Hosted By ShareWebHost