Home / আল্লাহর ওলীগণ / আমার পরম মুরব্বী হযরতুল উস্তায রহঃ

আমার পরম মুরব্বী হযরতুল উস্তায রহঃ

(মুসলিমবিডি২৪ডটকম)

আমার পরম মুরব্বী হযরতুল উসতায রহঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

“আর অবশ্যই হযরত পালনপুরী ছাহেবের মজলিসে বসবেন।”  মাদারে ইলমি দারুল উলূম দেওবন্দের পথপানে,

এক মুসাফির তালিবুল ইলমকে তার প্রশস্তপ্রান উসতাযের নসিহত এটি।

(এ প্রশস্তপ্রান ব্যক্তিটি হলেন আমার প্রিয় উস্তায,জামিয়া আরযাবাদের মুফতি ও মুহাদ্দিস,মাওলানা শুয়াইব ছাহেব দাঃ মাঃ আমি তখন জামিয়ার দারুল ইফতা থেকে সদ্য ফারাগাত লাভ করেছি।)

১৪৩৬ হিজরীর রমযানুল মুবারক এখনও শুরু হয় নি,আল্লাহ তা’আলার অশেষ শোকরিয়া,

দারুল উলুম দেওবন্দ যাওয়ার সৌভাগ্য হল আমার,পাক্কা ইরাদা,মাসখানেক থাকব এখানে,

আসাতিযার মজলিসে বসবো, মাহে রামজানের ই’তিকাফ শেষে স্বদেশ ফিরবো।

আহ্! আল্লাহ তা’আলার মর্জি,আমার এই কয়েকদিনের ইলমী সফর ,চৌদ্দশ চল্লিশ দিনের মাথায় গিয়ে শেষ হলো।

জীবনের স্বপ্নময় চারটি বছর সেখানেই কাটলো,প্রথম বছর দাওরায়ে হাদিসের তালিবুল উলুম এবং পরের তিন বছর

উলুমুল হাদীস বিভাগের সম্মানিত মুশরিফ আল্লামা মুফতি আব্দুল্লাহ মারুফি সাহেব দাঃমাঃ এর মুআয়িন হিসাবে।

মূলত যে মানুষটিকে ঘিরে আমার প্রবাস জীবন, যার সোহবাত ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা,তার দর্শনে নিমিষেই শেষ হতো সব দুঃখ-বেদনা।

জ্ঞান তৃষ্ণায় ব্যকুল ছুটে যেতাম যার মজলিসে,এক মুঠো দু মুঠো ইলমের আশায় ভিক্ষুকের মতো ঘুরাঘুরি করতাম যার বাসভবনের আসেপাশে।

তিনি আমার পরম মুরব্বী   হযরতুল উসতায  মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহঃ।

যিনি উলামায়ে দেওবন্দের সফল উত্তরসূরি,ইসলামী বিশ্বের মাসহুর আলিম,মুসলিম উম্মাহর পথপ্রদর্শক,

বরেণ্য ফকিহ,মুহাদ্দিস,মুফাসসির,এককথায় শতাব্দীর মহাপুরুষ।

বহুগুণ,  বৈশিষ্ট্য ও যোগ্যতার সমাবেশ ঘটেছিল তার জীবনে।

সেগুলোর কোন একটির সম্পুর্ন বর্ণনা দিতে গেলে,কয়েকশো পৃষ্ঠার কিতাব লিখা হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলার অশেষ শোকরিয়া,তিনি আমায় হযরতুল উসতায রহঃএর শেষ জীবনের চারটি বছর খুব কাছ থেকে তাকে দেখার ও খিদমাতে সুযোগ দিয়েছেন।আলহামদুলিল্লাহ্।

এ চারটি বছর আমার জীবনের সুখকর স্বপ্নের মতনই ছিল।সে দিনগুলোর শত স্মৃতি তার হয়ে আজও হৃদাকাশে জলজল করে।

এখানে হযরত রহঃ এর সাথে অধমের কয়েকটা স্মৃতি এবং কয়েকটি বিশেষ গুনের কথা আলোচনা করবো।

আখলাকে নববীর প্রতিচ্ছবীঃ

হযরতুল উসতায্ মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী (রহঃ) ছিলেন আখলাকে নববীর প্রতিচ্ছবী, তার জীবনের পরতে পরতে ছিলো ঔশী নূরের ঝলক।

চরিত্র মাধুর্যের এক জ্যােতির্বলয় তাকে ঘিরে বিরাজমান ছিলো। নববী আখলাকের ন্যায় তার আখলাকেরও অনত্যম বৈশিষ্ট্য হলো:-

তিনি পরিচিতি-অপরিচিত উলামা- ত্বালাবা মুহিব্বীন -মুতায়াল্লীকিন সবাইকে সমভাবে সময় দিতেন।প্রতিদিন আসর বাদ থেকে মাগরিব পর্যন্ত তার বাসভবনে মজলিস হতো।

এতে তিনি উপস্থিত লোকদের সাথে প্রফুল্লাচিত্তে কথাবার্তা, হালপুরসী ও বিভিন্ন প্রশ্নের ইলমী জবাব দিতেন। অপরদিকে পরিবারের সদস্যগনকে ও তিনি সময় দিতেন যথানিয়ম।

এ বিষয়ে বাড়ির ছোট বাচ্চাটিরও তার ব্যাপারে অভিযোগ ছিলো না। এমর্মে একটি ঘটনা মনে          পড়ছে:-

শীতের রাত।  মসজিদে কদীমে এশার পড়ে বের হলাম। পকেটে থাকা মুঠোফোন বেজে উঠে।হযরতুল উস্তায (রহঃ) ফোন করেছেন। রিসিভ করতেই ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ কন্ঠে আওয়াজ এলো:-

تھوڑی دیر کے لۓ مکان پے آجاؤ  (কিছুক্ষণের জন্য বাসায় আসো) আমি দৌড়ে মহল্লা আন্দুরুন কোটলায় (দেওবন্দ যেখান হুযুর রহঃ বাড়ি অবস্থিত) পৌঁছলাম।

আস্তে আস্তে দরজা খুলতেই আমি তো অবাক! সদা কর্মব্যস্ত মানুষটি একি করছেন! হাস্সান, হাফিজ, আসেম, ইউসুফ, ইয়াহিয়,মুহাম্মাদ হাফসা,যয়নব,  (এরা সবাই হযরত রহঃ নাতী- নতনী)

এরা হযরতের কামরায় হট্টগোল করছে।অথচ  তিনি কিছু বলছেন না। বাচ্চাদের একজন তাঁর দাঁড়িতে হাত রেখে খেলা করছে,

অন্যজন নাক ধরে টানাটানি করছে,অরেকজন টুপি নিয়ে খেলা করছে, এসব দেখে হাসছেন তিনি। আমি আস্তে আস্তে সম্মুখপানে দুজানু হয়ে বসে পরলাম।

আমার কৌতুহল মনোভাব দেখে তিনি নিজেই বললেন।

لکتھے لکتھے جب دماگ میں الجھن ھوتی ھے تو بچو کو بولا کر انھیں کھیلنے  کو کھتا ہو یہا تک کہ میرا دماغ  کام کرنے لگتا ہے پھےر سب کوبھگا دےتا ہو

অধিক লেখালেখির কারণে যখন মাথা ভারি হয়ে যা। তখন বাচ্চাদের ডেকে আনি, কিছুক্ষণ তাদের সাথে আমোদ প্রমোদ করি।

 যতক্ষণ’না মেধা-মনন কর্মক্ষম হয়ে উঠে,তখন সবাইকে চলে যেতে বলি।

– ভাবানুবাদ- হযরত উস্তায (রহঃ) এর আচরণ দেখে নবী দৌহিত্র হযরত হোসাইন (রাঃ) এর মাঝে মুহুর্তের জন্য হারিয়ে গেলাম। আহ! বাচ্চারা আজ আখলাকে নববীর সুশীলতল ছায়া তলে সিক্ত হচ্ছ।

সফরে-হযরতের স্বাভাবিক জীবনযাপন। 

হযরতুল উস্তায (রহঃ) এর জীবনযাপন ছিলো সাদামাট। ব্যাক্তি জীবন আর পারিবারিক জীবন কোথাও তাকাল্লুফ বা জৌলুসের চিহ্নও ছিল না।

দেওবন্দ হযরতের বাসভবনে(মহল্লা আন্দরুন কোটলায়) যারা গিয়েছেন, তারা অবশ্যই তাঁর সাদেগি দেখে থাকবেন।

আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো- সফর অবস্থায়  তাঁর  এগুনটি অধিক মাত্ররায়   প্রস্ফুটিত হতো।      এমর্মে একটি ঘটনা পড়ছে :-

১৪৩৮ হিজরি মাহে রজব। মিরাঠ শহরের প্রসিদ্ধ “ইদারা”মাদ্রাসায়ে -হোসানিয়ার সালানা আজ।এতে প্রধান মেহমান  ফক্বঁহুল, আস্র, হযরত উস্তায সাঈদ আহমদ পালনপুরী।

রফিকে, সফর’ হয়েছেন সাহেবজাদা মুফতি হোসাইন আহমদ পালনপুরী ও আব্দুল্লাহ মারুফী। খাদেম হওয়ার সুবাদে অধমেরও খোশনসীব হলো।

সকাল সাড়ে এগারোটায় আমরা সেখানে পৌঁছলাম। মুফতি আব্দুল্লাহ মারুফীর ইফ্তেতাহী বয়ানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হলো।

ইতিমধ্যে দুপুরের খাবারের সময় হলো। পাশের কামরায় দস্তরখান বিছানো হলো। দস্তরের দুপাশে  প্রায় পঁচিশ ত্রিশজন স্থানীয় লোকজন (আলেম-ওলামা ও) নিমন্ত্রণ হয়েছেন।

দস্তরের এক কোণে উস্তায, ভাই হোসাইন, আব্দুল্লাহ মারুফী ও আমি অধম বসেছি। টুকরো কাপড়ে মোড়ানো তন্দুররুটি ও বাটি ভর্তি গোস্তের সালন দস্তরে রাখা  হলো।

মুহূর্তের মধ্যে সবাই খাওয়া  শুরু করে দিলেন। মেযবানরা আমাদের কানে কানে বললেন:-  تھوڑی دیر رکیں- حضرت کے لۓ الگ انتظام ہے

( কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুণ, হযরতের জন্য আলাদা ব্যাবস্থা আছে) এতক্ষণে হযরত (রহঃ) রুটি আর সালন দিয়ে খাওয়া শুরু করে দিলেন।

তাঁকে কিছু বলার হিম্মত আমাদের কারোর হল না।  আমরাও রুটি আর গোস্ত নিয়ে খাওয়া শুরু করেছি।দু’চার লোকমা খেতেই মেযবানরা হরেক রকম খাবার হাতে হাযির!

দশ বারো আইটেম হযরতের সামনে রাখা হলো। তিনি সবগুলোর দিকে চোখ তুলে তাকালেন এবং চামচ হাতে নিয়ে ডানে- বামে বসে আছেন যারা।

সবাইকে অল্প পরিমাণে দিলেন,নিজও নিলেন।এরপর ইশারা করে বললেন যেন হযরতের জন্য বিশেষ সালনের বর্তনগুলো সবার সামনে রাখা হয়।

আমরাও তাই করলাম, ফলে দস্তরখানার সবাই একই খাবার খেলেন। এলাকাবাসী হযরতের আচরণ দেখে খুবই অভিভূত হলেন।

সেদিন বুঝা মশকিল ছিল,  দস্তরখানে বসে আছেন, যিনি কিনা জীবন্ত কিংবদস্তী, হযরত উস্তায সাঈদ আহমদ পালনপুরী (রহঃ)

তাওয়াজুঃ

দারুল উলুম দেওনবন্দের শায়খুল হাদীস ও সদরুন মুদাররিসীন, যুগশ্রেষ্ট ফক্বীহ, মুহাদ্দিস হওয়া সত্ত্বেও ইলমী বিষয়ে হযরত উস্তায (রহঃ) তাওয়াজু ছিলো আকর্ষণীয়।

দরস- তাদরীস, তাহরীর-তাক্বরির এবং ইসলামী মজলিস গুলোতে নিজ শাগরেদের নাম নিতেন অবলীলায়।

বহুবার দেখছি যে মাসআলা মাসায়েল বিষয়ে তাঁকে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করছে তো তিনি নিঃসংকোচে  বলছেন,مفتی نعمان سے پوچھو

( মুুুফতি নোমান -যিনি দেওবন্দ দারুল ইফতার  মুুুহতারাম মুফতি সাহেব -এর  কাছে জিজ্ঞেস করো)  ইলমে কালাম বিষয়ে মুফতি খোরশেদ আনওয়ার সাহেব।

উর্দু আদব বিষয়ে মুফতি ইশতিয়াক সাহেব, ইলমে হাদিস বিষয়ে মুফতি আব্দুল্লাহ মারুফী সাহেব ও খতমে নবুওয়াত বিষয়ে মাওলানা শাহ্ আলম গৌরবপুরী  সাহেবর নাম সহ বলে দিতেন।

(অথচ এরা সবাই হযরত (রহঃ) এর শাগরেদ) গত দু’বছর আগে বাদ- আসরের মজলিসে এক ত্বালিবুল ইলিম “হুজ্জাতুল্লাহীল” বালিগাহ”

গ্রন্থের কোন এক অধ্যায়ের ব্যাখ্যা জানতে চাইলো।উত্তরে হযরত ( রহঃ)  বললেন:- حمۃ  اللہ الواسعۃ  رمیں اسکی شرح موجود ہے

(রাহামাতুল্লাহি ওয়াসিয়ায়- এর ব্যাখ্যা রয়েছে তাই সেখানে দেখো-ভাবানুবাদ:-) ছাত্র আবার জিজ্ঞেস করলো রাহিমাল্লার কোথায় এর ব্যাখ্যা রয়েছে?

হযরত খুব স্বাভাবিকভাবে আমি অধমের দিকে   ইঙ্গিত করে বললেন  نعیم سے پوچھو یہ رھہت اللہ کا دربان ہے

(নাঈম কে জিজ্ঞেস করো সে রাহিমাতুল্লাহর দ্বাররক্ষী) এই ছিলো হযরত (রহঃ) এর -তাওয়াজু। তিনি এভাবে ছোটদের মুল্যায়ন করতেন।

আল্লামা কাশ্মীরি ও সাঈদ আহমদ পালনপুরীঃ

 হযরত উস্তায মুুুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী অসাধারণ মেধাবী ও প্রখর স্বরণশক্তি অধিকারী ছিলেন। একনিষ্ঠ মুুুতাআলা, গভীর দৃৃষ্টি ও ইলমী

তাহকৃকতের ক্ষেত্রে তিনি আল্লামা আনোয়ার শাহ (রহঃ) প্রতিবিম্ব ছিলে। শুধু দরস, তাদরিস, তাসনিফ, তালিফ ই ছিলো তাঁর জীবনের চিরসঙ্গী।

ঝটিল ও কঠিন মুহুর্তে ও তিনি এ কাজগুলো আঞ্জাম দিতেন। ১৪৩৭-৩৮ হিজরী শিক্ষাবর্ষের কথা, সে বছর হযরতের চোখে মোতিয়াবন্দ (চোখে ছানী) পরেছিলো।

ফলে ছোট অক্ষরের লেখা পড়তে পারতেনা, ( সে সময় তিনি তাফসীরে হিদায়াতুল কোরআন লিখেছেন, তাই) প্রথমত চোখের অপারেশন করতে রাজি হননি তিনি। পরে পরিবারের লোকজনের,

পিড়াপিড়িতে রাজি হলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪৩৭-৩৮ হিজরীর ষান্মাসিক পরিক্ষা চলাকালীন সময়ে তিনি এবং উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা রিসালত আলী বিজনৌরি রহঃ)

(ঘটনাক্রমে বিজনৌরির চোখেও সমস্যা দেখা দেয়, তাই তারা উভয়ে)চোখের অপারেশনের জন্য মুম্বাই তারীফ নেন,একদিনে উভয়ের অপারেশন হয়ে যায়।

আলহামদুলিল্লা। আমরা ভেবেছিলাম হযরত (রহঃ) বারো চৌদ্দদিন সেখানে থাকবেন। কিন্তু একসাপ্তাহ যেতে না যেতেই সবাইকে অবাক করে,

দেওবন্দ ফিরে আসলেন। চোখে  কালো চশমা, ভালোই দেখাচ্ছিল তাঁকে। ডাক্তারের ভাষ্যমতো তার চোখ এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।

তবে আরো একসপ্তাহ চোখের বিশ্রাম প্রয়োজ। কিতাব মুতাআলা বা নিজহাতে লেখালেখি না করা শ্রেয়। ডাক্তারের কথামতো দেওবন্দ ফেরার প্রথম  দিন কিছু করেননি।

দ্বিতীয় দিন ঠিকই বসে গেলেন পড়ার জায়গা।মৌখিকভাবে তাফসির করতেন আর উপস্থীত খাদেমের মধ্যে কেউ তা খাতায় লিখে রাখতেন।

তিন চার দিন এভাবে কাটলো, পঞ্চমদিন তিনি নিজেই লেখা শুরু করে দিলেন। আমরা সাহস করে ও কেউ কিছু বলতে পারলাম না।

সেদিন বিকেলে তাফসির বিষয়ক কোন একটি হাওয়ালা যাচাই এর জন্য আল্লামা সুয়ুতী (রহঃ)  এর ” আদৃ দুররুল মানছুর আনতে বললেন।

ক্বদীম নুসৃখা হওয়ার জন্য অক্ষরগুলো ছোট ছিল। হযরত উস্তায (রহঃ)  এর অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে কিতাব হাতে দিলামন না।

বিনীত স্বরে আরজ করলাম _ہم تلاش کرکے دتے ہین (আমরাখুুঁজে দেই?) এ কথা শুুুুুনামাত্র দ্রুত কিতাব আমার থেকে নিয়ে নিলে।

আর বলতে লাগলেন,? کیا ہم اندھے ہو گیے(আমরা কী অন্ধ হয়ে গেলাম) এরপর হযরত দীর্ঘ সময় ধরে পড়তে থাকলে।

এহলো হযরতের মুতাআলার চিত্র,অথচ তখন তার বয়স ৭৭-৭৮ বছর।

দেওবন্দিয়াতে ব্যাপক প্রচার ও প্রসারঃ

তরজুমনে দেওবন্দ হযরতুল উস্তায রহ. দেওবন্দ ও আকাবিরে দেওবন্দ রহ. ( বিশেষত মাওলানা কাসেম নানুতভী ও ফক্বিহুন নফস রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী রহ.)

এর চেতনাকে নিজের মন মস্তিষ্কেে ও বাস্তবিক জীবনে এতো বেশি লালন করতেন যা, আমার  মতো ত্বিফলে মুক্তবের পক্ষে অসম্ভই বটে।

আল্লাহ তায়া’লা হযরতের মাধ্যমে দেওবন্দী চিন্তাধারার ব্যাপক বিস্তার ঘটিয়েছেন। হাদিসের দরসের, ইসলামি মজলিসে অথবা খুসুসী বয়ানে।

دوبندیت کیا ہے(দেওবন্দ কী) শিরোনামে তাঁর আলোচনায় চিরস্মনীয় হয়ে থাকবে। ইনশাআল্লাহ।

দারুল উলুম ( ওয়াক্বফ)দেওবন্দের সদর মুহতামিম, হাক্বিমুল ইসলাম ক্বারী তয়্যেব রহ. তনয়, মাওলানা সালিম কাসেমী রহ. ( জন্ম১৩৪৪ হিজ. ১৯২৬ ইং মৃত্যু ১৪৩৯ হি. ২০১৮ ইং)

এর ইন্তেকালের ২৯ জ্বিলকদ ১৪৩৯ হিজরী( ১২ আগস্ট ২০১৮ ইং) অনুষ্ঠিত সেমিনারকে কেন্দ্র করে উস্তাযে মুহতারাম আবুল কাসেম নোমানী সাহেব (দ.বা.)

এর নামে লিখিত হযরতুল উস্তাযের যুগান্তর পত্রট, যুগ যুগ ধরে দেওবন্দী চেতনাকে ধারন করবে। [এবিষয়ে হযরত রহ. গ্রন্থ  جلسہ تعزیت کا شرعی حکم পৃষ্ঠাঃ ৫-৪৪ এবং ৭৭-৮৭ পৃষ্ঠা দেখা যেতে পারে।]

আল্লাহ তায়া’লা হযরতুল উস্তায রহ. এর খেদমতকে কবুল করুন। তার রেখে যাওয়া আশীর্বাদ ও অনুস্মরণীয় গুণাবলী থেকে আমাদের কে ফায়দা হাসীল করার তাওফীক দান করেন। আমিন।

লেখকঃ

মুফতী আব্দুর রহমান নাঈম কাসেমীখাদেমঃ  মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহঃ।

উস্তাযুল হাদীসঃ  জামেয়া মাহমুদিয়া দেশিপাড়া গাজীপুর।   খতিবঃ   কাথোরা বায়তুল আকসা জামে মসজিদ গাজীপুর সিটি। মোবাঃ 01987402585

About নঙ্গে আসলাফ আফজাল

নঙ্গে আসলাফ আফজাল ১৯৯৫ সালের ১৪ ই এপ্রিল মাসে জন্মগ্রহণ করেন।২০১২ হিফজ সম্পন্ন করেন মাদ্রাসা দাওয়াতুল হক দেওনা,গাজীপুর, ঢাকা থেকে। উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন২০১৬ সনে ইসলামাবাদ মাদ্রাসা বি-বাড়িয়া থেকে। দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স)সম্পন্ন করেন ২০২০ সনে শাহ সুলতান রহঃ মাদ্রাসা সিলেট থেকে।তিনি লেখা-লেখিতে অভ্যস্ত, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার লিখা প্রকাশ করা হয়েছে। Muslimbd24.com এ তার দৈনিক ইসলামী নিউজ সহ বিভিন্ন লিখা প্রকাশিত হয়। ঠিকানা: বালাগঞ্জ, সিলেট। মোবাইল নাম্বার:০১৭১৪৪৭৫৭৪৫ ইমেইল: hafijafjal601@gmail.com ইউটিউব চ্যানেলঃ https://www.youtube.com/channel/UCocSpOf_nj57ERq1QorZA6A

Check Also

কুরবানী ফযীলত ও তার জরুরি মাসায়েল

কুরবানীর ফযীলত ও তার জরুরি মাসায়েল

(মুসলিম বিডি ২৪.কম)  بسم الله الرحمن الرحيم কুরবানীর ফযীলত রাসুলে পাক (সা.) ইরশাদ করেন, কুরবানীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by

Hosted By ShareWebHost